চট্টগ্রামে একদিনে প্রায় ২৫ হাজার বই বিনিময়
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শুক্রবার সকাল ৯টা। তখনো নগরীতে জেঁকে বসা শীতের কুয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। নগরীর জামালখান মোড়ে ভিড় করতে শুরু করেন তরুণ-তরুণীরা। প্রায় সবার হাতে অনেক পুরোনো বই। কারো হাতে শোভা পাচ্ছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দুরবীন, কেউ বা ব্যাগে করে নিয়ে এসেছেন গণিত অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির বই। আবার হাতে দেখা যায় হুমায়ুন আহমেদের গল্পের বই। তাদের পুরোনো বইগুলো দিয়ে সবাই নিয়েছেন নতুন বই।
‘স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের’ উদ্যোগে চট্টগ্রামে এবার সপ্তমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘বই বিনিময় উৎসব’।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। এ দিন প্রায় ২৫ হাজার বই বিনিময় হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বই বিনিময় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি একুশে পদকপপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস বলেন, চট্টগ্রামের অসংখ্য ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থান আছে। এ বই বিনিময় উৎসব চট্টগ্রামের তেমনই এক নতুন ঐতিহ্য হিসেবে গড়ে উঠতে চলেছে। এ ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। এ ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। স্মার্টফোনের এ যুগেও বইয়ের আবেদন যে কমেনি তা এরকম উদ্যোগের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয়।
বিকালে সরেজমিন দেখা যায়, জামালখান মোড়ে সড়কের দুপাশের ফুটপাতে সাজানো রয়েছে সারি সারি বইয়ের স্টল। সেখান থেকে বইপ্রেমীরা তাদের পছন্দের বইটি সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। প্রতিটি স্টলের সামনেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছেন পরিবারের সদস্যদের। এবার বই বিনিময় উৎসবে কথাসাহিত্য, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, হুমায়ুন-ছফা, কবিতা, ইতিহাস, রাজনীতি ও আত্মজীবনী, ক্যারিয়ার ও বিজ্ঞান, একাডেমিকসহ মোট ১১টি স্টলে বই বিনিময় করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বই বিনিময় উৎসবে একজন পাঠক তার পঠিত বইটি রেখে অন্য বই বিনিময় করে নিয়ে যেতে পারেন বিনামূল্যে। আর এ কাজের জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এবারের বই বিনিময় উৎসবে যোগ হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
‘প্রায়োরিটি বাংলাদেশ’ নামে চিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের সাহিত্য, সিনেমা, লোকগান, ইতিহাস, চট্টগ্রাম, জাতিবৈচিত্র্য ও অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন স্থিরচিত্র।
বই বিনিময় উৎসবের সমন্বয়ক ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর বলেন, ‘বই নয়, জ্ঞানের বিনিময়’ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ থেকে ৬ বছর আগে পাঠক তৈরির মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এই উৎসব শুরু করেছিলাম। সেটা এখন আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক জীবনে বৈচিত্র্য ঘটিয়েছে। বইমেলার মতো বই বিনিময় উৎসবের জন্যও পাঠক এখন অপেক্ষা করে থাকেন। এটিই আমার কাছে অনেক বড় সফলতা।
