চট্টগ্রামে ৩৫টি সোনার বার ছিনতাই
সাবেক পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৬
২৯টি বার উদ্ধার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে ৩৫টি সোনার বার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সাবেক এক এএসআইসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিনে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার বিকালে সিএমপিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- পুলিশের সাবেক এএসআই সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২), সুমনের স্ত্রী পান্না রাণী দাস (৩৮), তার ভাই রবি কুমার দাস (৪০) এবং ওই জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিক (৪২)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ছয় কোটি টাকা দামের ২৯০ ভরি ওজনের ২৯টি সোনার বারের সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪ জানুয়ারি সকাল ৫টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা চার ছিনতাইকারী চলন্ত সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবুজ দেবনাথ নামে একজনের কাছ থেকে ৩৫টি সোনার বার, তিনটি মোবাইল ও কিছু নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন সবুজ। তিনি নগরীর হাজারী লেইনের কৃষ্ণ চন্দ্র কর্মকার নামে একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী। সবুজসহ তিনজন ওই দোকানের ৩৫টি সোনার বার নিয়ে নগরীর সাবএরিয়া থেকে অটোরিকশায় করে বায়েজিদ বোস্তামি যাওয়ার সময় তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ছিনতাইকারীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরের মাধবপুর থেকে সুমন, মাসুদ ও ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। মূল ছিনতাইয়ে জড়িত চারজনের মধ্যে একজন এখনো পলাতক। এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকা থেকে রবিকে এবং চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্নাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পান্নার বোন প্রতিমা দাশের বাসা থেকে ২৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এরপর ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়া জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেফতার করা হয়।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে সুমনকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে জেলেও গিয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে এখন একটি পেশাদার ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
