সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে ঠাকুরগাঁও।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৌষের শেষে উত্তর জনপদে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে ঠাকুরগাঁও। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোরের আলো ফুটতেই থার্মোমিটারের পারদ নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে কার্যত ‘অকাল ঘুম’ দিচ্ছে গোটা জেলা। কিন্তু এই ঠান্ডার কামড়ে ঘুম উড়েছে প্রান্তিক চাষি আর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ছিন্নমূল মানুষের। একদিকে ফসলের মড়ক, অন্যদিকে ত্রাণ নিয়ে হাহাকার—সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে উত্তরের এই জনপদ।
শনিবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ে যে আবহাওয়া দেখা গেছে, তাকে স্থানীয়রা বলছেন ‘শীতের মরণকামড়’। বেলা বাড়লেও রোদের তেজ নেই, বরং হাড়হিম করা উত্তুরে হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, সকালে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছিল। এই আবহাওয়ায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ; আলুর মড়ক আর বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম নেই তাদের।
শীত মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও, সেই ত্রাণের দেখা মিলছে না গ্রামগঞ্জে। হরিহরপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রহিমের প্রশ্ন—‘৩০ লাখ টাকার কম্বল গেল কোথায়? মুই তো পাওনি!’ একই হাহাকার মালেকা বেগমের কণ্ঠেও। স্বামীহারা এই বৃদ্ধার দিন কাটছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় থরথরিয়ে কেঁপে, অথচ সরকারি সাহায্যের একটি সুতোও তার দুয়ারে পৌঁছায়নি।
ত্রাণ বণ্টন নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তুঙ্গে। বালিয়াডাঙ্গীর দিলীপ চন্দ্র রায়ের অভিযোগ, সরকার কম্বল দিলেও তা প্রভাবশালী আর তদবিরকারীদের কব্জায় চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ব্রাত্যই থেকে যাচ্ছে।
রহিমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু আবার দুষছেন বরাদ্দের স্বল্পতাকে। তার সাফ কথা, চাহিদার তুলনায় এই বরাদ্দ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মার্টিনা হাঁসদারের দাবি, তাদের এলাকায় এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোনো স্তরের শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি।
ঠান্ডায় হাত-পা জমে গেলেও পেটের টানে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন রিকশাচালক আব্দুল মতিনরা। হ্যান্ডেল ধরতে গিয়ে হাত অবশ হয়ে আসছে, তবু যেতে হচ্ছে রোজগারে। জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা আশ্বস্ত করে বলেন, অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

