বরগুনায় দুই ভাইয়ের মারামারি থামাতে গিয়ে চাচাতো ভাই খুন, গ্রেপ্তার ৩
তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরগুনার আমতলীতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) মাত্র ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধের জেরে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারি বাধে। এই মারামারি থামাতে গিয়ে জহিরুল শিকদার (৪৫) নামে তাদের এক চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের বাহালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফছের মাস্টার বাড়ির উত্তর পাশের বিলে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপন ভাই মুনসুর শিকদার ও ফরিদ শিকদারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত মুনসুর শিকদার তা মেনে নেননি।
শনিবার সকালে ফরিদ শিকদার জমিতে চাষ করতে গেলে মুনসুর শিকদার তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন তাদের চাচাতো ভাই জহিরুল শিকদার। তখন মুনসুর শিকদার গরু জবাইয়ের একটি ছুরি দিয়ে জহিরুল শিকদারের বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় স্বজনরা জহিরুল শিকদারকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার বুক ও পেটের মাঝ বরাবর ছুরিকাঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহত জহিরুল শিকদার মৃত্যুকালে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মুনসুর শিকদার (৬০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৫৫) এবং তার ভাই ফরিদ শিকদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,সংবাদ পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

