মোহনগঞ্জে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে পিটিয়ে জখম
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রঞ্জিত চন্দ্র কর । ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রঞ্জিত চন্দ্র কর (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভটিপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রঞ্জিত চন্দ্র কর উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রঞ্জিত চন্দ্র করের সাথে একই গ্রামের সুশীল চন্দ্র করদের জমিজমাসহ নানান বিষয়াদি নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে উকিল মুন্সী বাজারে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ির অদূরে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সরজিতসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রঞ্জিতের ওপর হামলা চালায়। এসময় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রঞ্জিতের দুই পা ও শরীরে গুরুতর জখম করা হয়। রঞ্জিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত রঞ্জিত চন্দ্র করকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
রঞ্জিতের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বলেন, আমাদের ভাটাপাড়া গ্রামটি এ ইউনিয়নের মধ্যে হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আমরা সাত ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাইয়ের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। কিন্তু আমার অন্য দুই ভাইসহ পুরো গ্রামের লোকজনই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে পার করেছি। যেকোন বিষয় নিয়ে আমার দুই ভাইসহ গ্রামের লোকজন এক হয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার চালায়। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেলেও আমাদের উপর অত্যাচার কমেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনা শনিবার (১০ জানুয়ারি) আহতের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ভাটাপাড়া গ্রামের সরজিত চন্দ্র কর (৩২), প্রদীপ চন্দ্র কর(২৮), সঞ্জিত চন্দ্র কর(৪০) ও সুশীল চন্দ্র করসহ (৬৫) প্রতিপক্ষের ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
