লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বায়তুশ শরফে ইছালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
মাহফিলে লাখো মুসল্লি অংশ নেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বায়তুশ শরফে দুই দিনব্যাপী ৮৪ তম ঐতিহাসিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলার কুমিরাঘোনা আখতারাবাদ মাঠে শুক্র ও শনিবার অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।
আনজুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এ মাহফিলের আয়োজন করে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম জি আ)। তিনি দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। আখেরি মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়।
আল্লামা শাইখ আবদুল হাই নদভী বলেন, মুসলিম উম্মাহ আজ গভীর ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। এ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় উম্মতে মোহাম্মদীকে গাউছে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানীর (রাহ) কর্মপন্থা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই।
দুই দিনব্যাপী মাহফিলে ওলামা- মাশায়েখদের তাকবির ছাড়াও তরিকতে আলিয়া কাদেরিয়ার প্রশিক্ষণ ও জিকির-আযকার অনুষ্ঠিত হয়।
রাহবারে বায়তুশ শরফ তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহর বাইরে কোনো শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত, মারেফত নেই। রাসূল (সা.) যা পালন করতে আদেশ করেছেন এবং যা থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন, তা আন্তরিকতার সঙ্গে মানার নামই ঈমান, আকিদা এবং তরিকত।
তিনি বলেন, যুগে যুগে পথহারা মুসলমানদের অন্ধকারের পথ থেকে দূরে সরিয়ে সিরাতে মুস্তাকিমের পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে হক্কানি তরিকাপন্থি পিরদের ভূমিকা অতুলনীয়। বায়তুশ শরফের মরহুম পির-মুরশিদরা ক্ষুদ্র মত-পার্থক্যের উর্ধ্বে উঠে শরিয়ত, তরিকত ও মারেফতের যে বাগান সৃজন করেছিলেন তার সৌরভে অসংখ্য পথহারা মানুষ সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছিলেন।
১৯৪২ সালে বড়পির হযরত মহিউদ্দন আবদুল কাদের জিলানীর (রা.) স্মরণে ইছালে সওয়াব মাহফিলের প্রবর্তন করা হয়। বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতরুল কাদেরী প্রকাশ হযরত কেবলা (রাহ.) তরিকতের ভক্ত-অনুরক্ত এবং আপামর জনসাধারণের জন্য বার্ষিক ভ্রাতৃ-সম্মিলনের অংশ হিসেবে এ মাহফিলের প্রবর্তন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর এ মাহফিল সম্পন্ন হয়ে আসছে। যেখানে মুসল্লির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে।
