সুদের টাকা না পেয়ে দিনমজুরের ভটভটি আটকে রাখার অভিযোগ
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর তানোরে ঋণের সুদের টাকা আদায়ে এক দিনমজুরের ভটভটি আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী উপজেলার চক দমকমা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পুত্র ভটভটিচালক মিলন আলী (৫৩) তানোর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামের এন্তাজ আলীর পুত্র দাদন কারবারি ওয়াসিম হোসেনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মাস আগে জুড়ানপুর গ্রামের ওয়াসিম হোসেনের কাছ থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে ৬৫ হাজার টাকা দাদন নেন ভটভটিচালক মিলন আলী। এরপর তিনি একটি ভটভটি গাড়ি কেনেন। এরপর প্রতি মাসে সুদবাবদ ওয়াসিমকে ১০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করে আসছিলেন; কিন্তু গত ডিসেম্বরে প্রচণ্ড শীতের কারণে কাজকর্ম কম থাকায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। সুদ পরিশোধের জন্য সময় চাইতে গেলে মিলন আলীর কাছ থেকে তার স্ত্রী ও পুত্রের ব্যাংক চেক জমা নেন ওয়াসিম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদের টাকা না পেয়ে গত ৭ জানুয়ারি ওয়াসিম হোসেন দলবল নিয়ে মিলনের বাড়িতে গিয়ে তার ভটভটি নিয়ে যায়। মিলনের ভটভটি এখন ওয়াসিমের বাড়িতে আছে। গাড়িটি ফেরত আনতে গেলে ওয়াসিম তাকে জানিয়ে দেন সুদের টাকা না পেলে গাড়ি ছাড়বেন না।
মিলনের অভিযোগ তিনি ৬৫ হাজার টাকা দাদন নিলেও ওয়াসিম তার কাছে এখন চার লাখ টাকা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী মিলন আলী গত ৭ জানুয়ারি থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। পুলিশ সেটি তদন্ত করছে। মিলন তার অভিযোগে তাকে হত্যার হুমকির কথাও বলেছেন। পুলিশ সেটাও তদন্ত করছেন। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী জানান, ওয়াসিম হোসেন একজন দাদন ব্যবসায়ী। বিভিন্নজনকে টাকা দাদন দিয়ে তিন-চার গুণ টাকা আদায় করা তার কাজ। গরিব মানুষেরা বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাদন নেন।
এ ঘটনার কয়েক মাস আগে ওয়াসিম হোসেনের সুদের চাপ সইতে না পেরে জুড়ানপুর গ্রামের আরিফ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এ ঘটনায় মৃতের ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওয়াসিমসহ ৩ জনকে আসামি করে তানোর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছিলেন। ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে পাঠায়নি তানোর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে ওয়াসিম হোসেন জানান, তিনি সুদের ওপর টাকা ধার দেন বিভিন্নজনকে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় মিলনের ভটভটি নিয়ে এসেছি। টাকা দিলেই ভটভটি ফেরত দেওয়া হবে। তার কাছে মিলনের দেওয়া স্ট্যাম্প ও চেক আছে।
