বিএনপি প্রার্থী মনোয়ারের বেড়েছে ঋণ, গড়েছেন স্ত্রীর নামে সম্পদ
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
মনোয়ার হোসেন খান। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একদিকে নিজের নামে সম্পদ কমে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্ত্রীর নামে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ও ব্যাংক জমাসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সংযোজন- এমনই এক বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে বিএনপির মাগুরা-১ আসনের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খানের নির্বাচনি হলফনামায়।
একাদশ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামা তুলনা করে দেখা যায়, গত সাত বছরে মনোয়ার খানের ব্যক্তিগত সম্পদ কমলেও তার স্ত্রী রওশন আরা বেগমের নামে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা এবং সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যবর্তী একটি বড় সময়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা মামলা ও হামলা আতঙ্কে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ে মনোয়ার খানের স্ত্রীর নামে নগদ মাত্র ৫০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ ছিল না। তবে এবারে দাখিলকৃত হলফনামায় দেখা যায়, রওশন আরা বেগমের নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫১২ টাকা এবং নগদ অর্থ রয়েছে ৯ লাখ ১২ হাজার ৭৯২ টাকা। স্বর্ণালংকারের পরিমাণও দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ ভরি।
স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মাগুরায় ৩ একর ৮৬ শতাংশ এবং ঢাকার সাভারে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি। পাশাপাশি ঢাকার উত্তরা ও ধানমন্ডিতে রয়েছে চারটি ফ্ল্যাট। এছাড়া রূপায়ন উত্তরা সিটিতে একটি ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম বাবদ জমা দেওয়া হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। রয়েছে ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাসও। তবে এসব সম্পদের বিপরীতে একটি ব্যাংকের কাছে স্ত্রীর নামে দায় হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮১ টাকা।
অন্যদিকে মনোয়ার হোসেন খানের নিজের সম্পদের চিত্র তুলনামূলকভাবে উলটো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেতা পেশায় ব্যবসায়ী হলেও একাদশ নির্বাচনের সময় যেমন তার ব্যবসা থেকে কোনো আয় ছিল না-এখনও নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বছর আগে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। তবে, ওষুধ কোম্পানির পরামর্শক হিসাবে তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
ব্যাংকে তার নিজ নামে জমাকৃত অর্থ ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২১ টাকা। আগে তার নামে থাকা ঢাকার ৭৪ শতাংশ অকৃষি জমিও বর্তমানে নেই। বিপরীতে ব্যাংক ঋণ ১০ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮১ টাকায়। তবে বর্তমানে দুটি কোম্পানিতে তার নামে শেয়ার রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ২৩ হাজার ৩৬০ টাকা। পাশাপাশি স্থায়ী আমানত হিসেবে তিনি স্ত্রীকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
নিজের, স্ত্রী ও সন্তানের সম্মিলিত সম্পদের বিপরীতে মনোয়ার হোসেন খান মোট ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
আইনগত অবস্থানের বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে আসামি এবং মামলাটি বিচারাধীন। এছাড়া আরও দুটি ফৌজদারি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
স্ত্রীর নামে এত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে মনোয়ার হোসেন খান বলেন, আমার বাবা তার অধিকাংশ সম্পত্তি আমার মায়ের নামে করেছিলেন। আমিও নিজের যা কিছু তা স্ত্রীর নামেই করেছি। নিজের নামে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করেই এসব সম্পদ গড়তে হয়েছে।
