Logo
Logo
×

সারাদেশ

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে নর-নারীর চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

Icon

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে নর-নারীর চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পরকীয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূ ও তার কথিত প্রেমিককে চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় নেহালপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের এ নৃশংস ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন চলছে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে একে অনেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এলাকার একাংশ প্রথমে দুজনকে আটক করে। এরপর কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে, গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এসব হয়েছে উৎসুক জনতার সামনে। কেউ কেউ সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ঘটনায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বেআইনিভাবে কাউকে আটক, শারীরিক নির্যাতন, নারীর মর্যাদাহানি, প্রকাশ্যে অপমান-এসবই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সমাজের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। কাউকে মারধর করা, চুল কেটে অপমান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলে দেশের প্রচলিত আইন, আদালত ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সামাজিকভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে চুল কেটে দেওয়া বা মারধর করা নিজেই দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীরা চাইলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম