চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে হত্যা
লঞ্চ থেকে আটক স্বামী
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে স্বামী জিহাদ। বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর লালমোহন থানা পুলিশ ও ভোলা র্যাবের যৌথ অভিযানে ভোরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোলা ইলিশা ঘাটে লঞ্চ থেকে আটক করা হয় স্বামী জিহাদকে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গণেশপুর গ্রামের বাসু মুন্সিবাড়ির হাফিজুর রহমানের মেয়ে রুনার প্রায় সাত মাস পূর্বে মামাতো ভাই জিহাদের সঙ্গে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে হয়। জিহাদ পার্শ্ববর্তী ৪নং ওয়ার্ডের পাঙ্গাশিয়া গ্রামে রফিকের ছেলে।
বিয়ের পর রুনাকে তুলে নেয়নি জিহাদ। যার কারণে সে বাবার বাড়িতেই থাকত। জিহাদ চট্টগ্রামে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করে। তাদের দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল বলে এলাকাবাসী জানান। কলহের জের ধরে রুনা তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
বুধবার রুনার মা রেহানা বেগম তার ছোট মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে (জিহাদের বাড়ি) যায়। বাবা গজারিয়া বাজারে পানের দোকান করার কারণে বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে বিকালে জিহাদ তাদের বাড়িতে অবস্থান করা রুনার মাকে চট্টগ্রাম যাবে বলে ঘর থেকে বের হয়ে বিকাল ৪টার দিকে বাবার বাড়িতে অবস্থান করা রুনার কাছে যায়।
সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুনাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় জিহাদ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাশের ঘরে থাকা রুনার চাচি নুরজাহান ওই ঘরে যান। দেখেন রুনা কম্বলের নিচে পড়ে আছেন এবং তার বুকের ওপর বালিশ রাখা ও মুখে লালা। তিনি ডাক-চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে রুনার বাবাকে খবর দেন।
স্থানীয়দের ধারণা, জিহাদ তার স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। রুনাকে মৃত পাওয়ার পর জিহাদকে ফোন করলে সে অসংলগ্ন কথা বলে। এতে সবাই তাকে সন্দেহ করে। খবর পেয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযানে ভোলা ইলিশ ঘাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম পালিয়ে যাওয়ার সময় জিহাদকে আটক করা হয়। হত্যার ঘটনায় নিহত রুনার বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
