ডাকাতদের সিএনজিতে অগ্নিসংযোগ, ২ ডাকাত গ্রেফতার
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে মেঘনা সেতু এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের উদ্যোগে এবার এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহারা বসানোর প্রথম দিনে বুধবার রাতে মহাসড়কের পিরোজপুর মৃধাকান্দি এলাকায় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই সিএনজি বেবিট্যাক্সির ভেতর থেকে দুই ডাকাতকে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ দুই ডাকাতকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃত ওই দুই ডাকাতের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মো. সারোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন যানবাহনে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছিল। ডাকাত দল যানবাহনের দরজা ও জানালার গ্লাস ভেঙে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে ডাকাত দল বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের যানবাহনকে সবচেয়ে বেশি টার্গেট করে ডাকাতি সংঘটিত করত। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অনেক ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে আটক করলেও বন্ধ হচ্ছিল না ডাকাতি ও ছিনতাই।
এ অবস্থায় গত বুধবার রাত থেকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. ইমরান আহাম্মদ ও সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহর নেতৃত্বে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই প্রবণ এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণের পর প্রথম দিনেই ডাকাত দলের তিন সদস্য সিএনজি বেবিট্যাক্সিযোগে এসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৃধাকান্দী এলাকায় বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে রবিন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে চাপাতি ফারুক নামে দুই ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পরে উত্তেজিত জনতা ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটককৃত ডাকাত রবিন মিয়ার বাড়ি উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামে। তার পিতার নাম-জাকির হোসেন। ডাকাত ফারুকের বাড়ি উপজেলার চেঙ্গাকান্দি এলাকায়। তার পিতার নাম হেলাল মিয়া।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিববুল্লাহ জানান, বুধবার রাতে পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ডাকাতদেরও গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতোমধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
