কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মামলা, সমন জারি
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা কলেজটি পবা উপজেলায়। তবে কাশিয়াডাঙ্গা মৌজা ছেড়ে কলেজটি সিটি করপোরেশনের গোয়ালপাড়া মৌজার প্রায় ২ কাঠা জমি দখল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে।
আদালত মামলার আসামি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল করিমকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
মামলার বাদীর নাম আনারুল ইসলাম। তিনি কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামেরই বাসিন্দা। আনারুলসহ জমিটির মোট মালিক চারজন। অন্য তিনজন হলেন- উজ্জ্বল হোসেন, আসমাউল হুসনা তিষা ও মো. শাহজালাল।
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মো. ফিরোজসহ ১১ জনের কাছ থেকে কলেজের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন এ জমিটি তারা কেনেন। খাজনা-খারিজ সব এখন আনারুল ইসলাম, উজ্জ্বল হোসেন, আসমাউল হুসনা ও শাহজালালের নামে।
কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ।
মামলার বাদীর অভিযোগ, ইউএনওর সহযোগিতায় পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এ জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, তাদের কেনা জমির পশ্চিম দিকে কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ অবস্থিত। কলেজটি কাশিয়াডাঙ্গা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত আরএস ৪১৫ নম্বর দাগে অবস্থিত। কলেজের নামে কোনো জমি নেই, দলিল নেই। তারা কলেজের সীমানা প্রাচীরের বাইরে মহাসড়ক সংলগ্ন ৩ দশমিক ২০ শতক জমি কেনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করতে যান। তখন কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
পরে তারা জানতে পারেন, কাজ বন্ধের জন্য পবার ইউএনও ও কলেজের সভাপতি আরাফাত আমান আজিজ পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। এরপর সেদিনই তারা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে আপত্তি জানান।
ওই সময় ইউএনও পবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসানকে কাগজপত্র দেখিয়ে মাপজোখ করার পর কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর এসি-ল্যান্ডের প্রতিনিধি এবং কাশিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার সাজ্জাদ হোসেন ও স্থানীয় সার্ভেয়ার আজাহার আলী মাপজোখ করেন। এরপর তারা একটি হাতনকশা প্রস্তুত করে দেন।
এতে দেখা যায় যে, বাদীপক্ষের কেনা জমির সীমানা প্রাচীর সঠিক আছে। তাদের জমির মধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা মৌজার কিংবা কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের কোনো জমি নেই। বিষয়টি গত ৩০ ডিসেম্বর লিখিতভাবে ইউএনওকে জানানো হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি আবার কাজ শুরু করলে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর পুলিশ গত ১৪ জানুয়ারি উভয়পক্ষকে থানায় ডেকেছিল। সেখানে একপক্ষ উপস্থিত হলেও অধ্যক্ষ হাজির হননি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জমির মালিক না হওয়া সত্ত্বেও অধ্যক্ষ আব্দুল করিম অবৈধভাবে কাজ বন্ধ করেছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে কথা বলতে অফিস কক্ষে গেলে তিনি কথা না বলে উগ্রমূর্তি ধারণ করে মারমুখী আচরণ করেছেন।
জানতে চাইলে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হামিদ বলেন, আদালত আমাদের মামলা গ্রহণ করেছেন। মামলায় কলেজের অধ্যক্ষকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে সশরীরে হাজির হতে আদালত সমন জারি করেছেন।
মামলার বাদী আনারুল ইসলাম বলেন, আমরা যে মালিকদের কাছ থেকে জমিটা কিনেছি, সেই মালিকের অন্য একটি জমি নিয়ে কলেজের মামলা চলছে। বিরোধপূর্ণ ও জমিটা কলেজের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে। আর আমাদের কেনা জমিটা সীমানা প্রাচীরের বাইরে। এখন ওই মামলা দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কেনা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক নেতার প্ররোচনায় কলেজ অধ্যক্ষ তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। ইউএনও নিজেই কলেজের সভাপতি হওয়ায় পুলিশ-প্রশাসনও কলেজের পক্ষ নিচ্ছে। তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিনা- সেটি জানা নেই। বিষয়টি জানব। সমন হলে আদালতে হাজিরা দেব। যারা জমিটি নিজের বলে দাবি করছেন, সেটি সঠিক না। সেটি সরকারি খাসজমি। এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার জমিটি মাপজোখ করে এমনটি পেয়েছেন। রাতের অন্ধকারে জমিতে কাজ করার জন্য পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি বা কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো উগ্র আচরণ করিনি।
