পেঁয়াজের বাম্পার ফলনেও হতাশ চাষিরা
আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত চাষিরা। পেঁয়াজ উত্তোলন করতে শত শত শ্রমিক কাজ করছেন। তবে ভালো দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পদ্মার চরে চকরাজাপুর বাজারে পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পদ্মার মধ্যে পলাশিফতেপুর চরের রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম আছে, সেটাতে লাভবান হওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বীজ ও অন্যান্য দ্রব্যে সার কীটনাশক ওষুধের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
কালিদাসখালী চরের নারী শ্রমিক আমবিয়া বেগম, সুমি আক্তার, আসমা বেগম বলেন, বেশি লাভের আশায় আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে এই পেঁয়াজ চাষ করে খরচ উঠবে না। অনেকের বিঘাপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা লোকসান হবে।
চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজ চাষি বাবলু দেওয়ান বলেন, দাম ভালো পাওয়ার আসায় এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে; কিন্তু দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। এবার যারা বেশি পেঁয়াজ চাষ করেছেন এর মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে না।
পদ্মার চরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, ঢ্যামনা ও চারা নামে দুই ধরনের পেঁয়াজ এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। চারা পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় মজুত রাখা যায়। এ পেঁয়াজ বেশি আবাদ হয় উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে।
খায়েরহাট এলাকার পেঁয়াজ চাষি সুজন আলী বলেন, পদ্মার চরে এক বছরের জন্য ৪ বিঘা জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করি। বীজ, সার, লেবার চাষ বাবদ আরও ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারমূল্য ভালো পাচ্ছি না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় সর্বত্র কম-বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শুধু পদ্মার চরাঞ্চলে। উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। চাষ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর।
