Logo
Logo
×

সারাদেশ

নিখোঁজের ১৯ দিন পর পদ্মা নদীতে মিলল বিএনপি কর্মীর লাশ

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পিএম

নিখোঁজের ১৯ দিন পর পদ্মা নদীতে মিলল বিএনপি কর্মীর লাশ

নিখোঁজের ১৯ দিন পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা চকপাড়া গ্রামের বিএনপি কর্মী গোলাকাজুল ওরফে কাজলের (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পদ্মা নদী থেকে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিপরীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে কাজলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।

নিহত কাজলের বাবার নাম আলতাফ হোসেন ফিরোজ। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। গত ২ জানুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ কর্মী হাসেম। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

নিহত কাজলের স্ত্রী লিমা বেগম গত ৮ জানুয়ারি বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামসহ আটজনের বিরুদ্ধে গুমের মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, কাজল একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশের ওসি তৌহিদুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে ঘটনাস্থল থেকে জানান, বিকালে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজলের অর্ধগলিত মরদেহ হাঁটু পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ও নিহতের ভাই শওকত আলীসহ আত্মীয় স্বজন কাজলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

তিনি জানান, মরদেহের  সুরতহালে দেখা গেছে, কাজলের মুখের সামনের ও উপরের পাটির বেশ কয়েকটি দাঁত ভাঙ্গা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় আঘাতজনিত কারণেই দাঁতগুলি ভেঙেছে। এছাড়া কোমরের নিচে বামপাশের থাইয়ের ওপর ধারাল কিছুর আঘাতের বড় ক্ষত আছে। মরদেহে বেশি পচন ধরায় সবকিছু খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। কাজলের মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাজশাহী নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশের আওতাধীন হলেও এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অধীন। খবর পাঠালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি নুরে আলম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই)  হরেন্দ্রনাথ দেবদাস বিকাল ৪টার দিকে কাজলের মরদেহ গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম জানান, কাজলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কাজলের স্ত্রী আগেই একটি গুমের মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে নিহতের ভাই শওকত আলী অভিযোগে বলেন, গত ১ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারের ওপর আলম ও নাজমুল কানার সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে কাজলের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। গত ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মীমাংসার কথা বলে আলম গ্রুপের হাসেম মোটরসাইকেলে তুলে তার ভাই কাজলকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই কাজলের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ঘটনার সময় আলমের বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী, নুরুল ইসলামসহ তাদের লোকজন উপস্থিত ছিল। তারা জানতে পারেন তার ভাইকে ওই রাতে পদ্মার ধারে নিয়ে গিয়ে খুন করে লাশ পুঁতে দেওয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি কাজলের স্ত্রী আটজনকে আসামি করে গুমের মামলা করেন। শেষে মঙ্গলবার বিকালে গোদাগাড়ীর সামনে নদীতে তার ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে।

শওকত অভিযোগে আরও বলেন, তার ভাই কাজলের নাক মুখ থেঁতলে দিয়ে সব দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে। মাথাতেও বড় আঘাতের চিহ্ন আছে। কোমরের নিচে ধারাল অস্ত্রের গভীর ক্ষত আমি দেখেছি লাশ তোলার সময়। তার দাবি আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে ওই রাতে হত্যা করেছে। লাশ গুমের চেষ্টা করেছে। শেষপর্যন্ত না পেরে লাশ তুলে পদ্মায় ভাসিয়ে দিয়েছে। আমি দ্রুত সময়ে মুল আসামিদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমার ভাইয়ের তিনটা শিশু বাচ্চা এতিম হয়ে গেল।

এদিকে নিহতের স্ত্রী লিমা বেগমের দাবি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা আমার স্বামী হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম