ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির পাশে আ.লীগ, জামায়াত জোটে বিভক্তি
জাহিদ রিপন, ফরিদপুর
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের চারটি আসনে নির্বাচনি প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। তবে নির্বাচনি হিসাব-নিকাশে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনে।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসনটি উন্মুক্ত রাখায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভোট টানতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে টানছেন বিএনপির প্রার্থী। সেই সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন কাজ করে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিও রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
এলাকাবাসীর মতে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন ভোটাররা জানান, ভাঙ্গা উপজেলা এবং চরবেষ্টিত দুটি উপজেলা সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসন। বিগত দিনে এ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ মতাদর্শের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর দখলে ছিল। শুধু ২০০২ সালে উপনির্বাচনে একবার বিএনপির প্রার্থী জিতেছিল। তবে অভ্যুত্থানের পর আসনটির নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের ভোটারের বড় একটি অংশ বিএনপিতে যোগ দিয়ে সেদিকে রয়েছেন।
এ আসনটি থেকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যার (রিকশা), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সরোয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ (ফুটবল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসহাক চোকদার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মজিবুর হুসাইন (ঘোড়া)।
এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন নেতা তাদের কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের (ধানের শীষ) হাতকে শক্তিশালী করেছেন। আর ১১ দলীয় জোটের দুইজন প্রার্থী মাঠে থাকায় বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।
শোনা যাচ্ছে, শেষমেশ ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের কিংবা খেলাফত মজলিশের যেকোনো একজন সরে যেতে পারেন। তাহলে হিসাব-নিকাশ পরিবর্তন হবে। তাতে বিএনপির শহিদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান মোল্যা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা উপজেলা থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। পরে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। বর্তমানে তিনি সদরপুর, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন উপজেলায় নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকায় কৌশল পরিবর্তন করে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীদের। এ কারণে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর আস্থাভাজনরা বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। মূলত মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০-এর বেশি আওয়ামী লীগের কাজী জাফর উল্যাহ ও সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতা রয়েছেন।
ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় চা দোকানির রফিক বলেন, বিগত দিনে কাজী জাফর উল্যাহকে ভোট দিলেও এবার ধানের শীষে ভোট দেবেন। কারণ শহিদুল ইসলাম বাবুল একজন ভালো মনের মানুষ।
বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে যে পরিমাণ নিপীড়নের শিকার হয়েছি, অন্য কেউ কিঞ্চিৎ পরিমাণও হয়নি। ১২৮ বার জেলে গিয়েছি, জুলুমের শিকার হয়েছি নিজের জন্য না, দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।
এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল বলেন, এ আসনের জনগণের মাঝে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে আমাকে তারা বেশ আশা জুগিয়েছে। আমি নির্বাচিত হতে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বিজয়ী না হতে পারলেও জনগণের জন্য কাজ করে যাব।
এই আসনে বেশ আলোচনায় আছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার বেগ পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন যাবত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ক্রীড়া জগতে পরিচিতি রয়েছে পরিবারটির।
এ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
তবে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিন উপজেলার ভোটারদের মধ্যে মামলা ও গ্রেফতারে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমার নির্বাচনে সবচেয়ে কাছের লোকের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এই আসনে বেশ জোরেশোরে প্রচারে নেমেছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্যাও। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এই নেতাও ভোটের মাঠে পিছিয়ে নেই। তবে মূল বাধা হয়েছে জামায়াত জোটের অমীমাংসিত প্রার্থী নিয়ে।
এসব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা এ সমস্যাকে চূড়ান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করি, আমাদের জোটের যেকোনো একজনকে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
