মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণ, আহত ৩
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ঠিক এ সময়ে যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই বোমা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ভোটের দিন সহিংসতা বা ভোট ডাকাতির জন্য আগেভাগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল?
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন- নূরজাক সরদারের ছেলে আব্দুল কাদের (৪২), আব্দুল বারিকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫) এবং সুলতান আউলিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের (৪০)। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন ও একজন আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ননী ঢালির ছেলে প্রবাসী জাকির ঢালির বাড়িতে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের গর্ত খননের কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকরা। এ সময় কোদালের আঘাতে মাটির নিচে আগে থেকেই পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, ভোটের আর এক সপ্তাহ বাকি। এখন যদি মাটির নিচে বোমা থাকে, তাহলে ভোটের দিন কী হবে? মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পাবে।
আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় আগেও বোমা বানানোর ঘটনা ঘটেছে। এখন এমন বিস্ফোরণ মানে পরিষ্কারভাবে মানুষকে ভয় দেখানো। এটা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার পরিকল্পনা কিনা, সেটা প্রশাসনকে পরিষ্কার করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনকে ঘিরে বালুন্ডা ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় বোমা তৈরির সময় এক ব্যক্তির সহযোগীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের বিস্ফোরণ শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত দেয়। অতীতে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের আগে সহিংসতার নজির থাকায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোমাটি কে বা কারা সেখানে পুঁতে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
