বগুড়ায় অস্ত্র হাতে যুবদল সভাপতির হুমকি, সিনিয়র সহসভাপতিকে মারধর

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়া জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার ও তার সমর্থকদের মারপিটে সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হুসেইন বাবলু আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাতে শহরে নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ে মারপিটের আগে তাকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। বাবলু শহরের নামাজগড় এলাকার ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা যুবদল সভাপতি সিপার দাবি করেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি। টাকা নিয়ে পদ না দেয়ায় ও প্রেস রিলিজে নাম না থাকায় দফতর সম্পাদক সুমন সরদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় জুনিয়র ছেলেরা তাকে (বাবলু) চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। তাকে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখায়নি।

আহত যুবদল নেতা সাব্বির হুসেইন বাবলু অভিযোগ করেন, গত বছর জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে তিনি কেন্দ্রে ত্যাগী নেতাকর্মীদের তালিকা পাঠান। অপরদিকে সভাপতি সিপার টাকা নিয়ে মাদকাসক্তসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের তালিকা দেন। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের তদবিরের কারণে সিপারের দেয়া কমিটি অনুমোদন লাভ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১৮১ সদস্যের কমিটিতে ১০-১২ জন মাদকসেবী রয়েছে। এ কমিটি নিয়েই সিপার ও তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত ছিল। এ কারণে কোনো অনুষ্ঠানে তাকে চেয়ার ও প্রেস রিলিজে নাম দেয়া হতো না। রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি (বাবলু) জেলা যুবদল কার্যালয়ে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় সভাপতি সিপার জ্যাকেট গায়ে সেখানে আসেন।

সাব্বির হুসেইন বাবলু বলেন, শীত না পড়তেই জ্যাকেট গায়ে দেয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে সিপার তার জ্যাকেটের ভেতর থেকে অবৈধ পিস্তল বের করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। তখন সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খাদেম মাঝে দাঁড়িয়ে তাকে বাঁচান।

তিনি জানান, এরপর সিপারের নেতৃত্বে সহদফতর সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম আপেল, ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আপেল, আলী হায়দার মিঠু, ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সোহাগ, ফাঁপোড় ইউনিয়ন যুবদলের নেতা হেলাল প্রমুখ তাকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তার মাথায় জখম ও বাম চোখের ভেতরে কেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। রাতেই তিনি ডা. বিপুল চন্দ্রের কাছে চোখের চিকিৎসার পর শহরের নামাজগড় এলাকায় স্বদেশ ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

বাবলু আরও অভিযোগ করেন, সিপার এর আগেও দলীয় কার্যালয়ে যুবদল নেতা মমি ও গোর্কিকে মারপিট এবং ক্যাডার দিয়ে জুম্মনকে ছুরিকাঘাত করিয়েছে। মারপিটের বিষয়টি তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের কাছে অভিযোগ করেছেন। তারা বিচার না করলে তিনি সংগঠন থেকে পদত্যাগ করবেন। এছাড়াও তিনি থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সভাপতি সিপার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবলুর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।