নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনে দুই সরকারি কর্মকর্তাকে শোকজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা হলেন- কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জিয়ার হোসাইন এবং বাদৈর ইউনিয়নে দায়িত্বরত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। অভিযোগের সঙ্গে তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন ওই দুই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আব্দুল হালিম নামে এক বাসিন্দা গত ২ ফেব্রুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ ও সংযুক্ত ছবি পর্যালোচনা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগটির কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।
নোটিশে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধির পরিপন্থি এবং নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১২টায় অনুসন্ধান কমিটির কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির পরিচালক মাওলানা শিবলী নোমানী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মনির হোসেন, মো. জোবায়ের মাহমুদ, ফরিদ আহম্মেদ, নেপাল চন্দ্র দাস এবং স্বাস্থ্য সহকারী মো. বিল্লাল হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন- এ ধরনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না। এ বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
