যশোরের ৬ আসনে ৩৬ প্রার্থীর লড়াই
ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারবেন না অধিকাংশ প্রার্থী
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরে ৬টি সংসদীয় আসনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছাড়া বাকিদের অধিকাংশই কর্মী সংকটে রয়েছেন। প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই। ফলে অধিকাংশ কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট থাকবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ও নির্বাচনি আচরণ বিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী প্রত্যেক ভোট কক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। সেই হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থীর সব কক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তারা ভোটারদের কাছেও অপরিচিত। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় তাদের এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছেন। অনেকের জামানত হারানোর শংকা রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদ আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে একজন প্রার্থীর ৪২৫জন পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন হবে। সবচেয়ে বেশি যশোর-৩ (সদর) আসনে এক হাজার ১৮৩ জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা)। এই আসনে ১০২ কেন্দ্রের ৫৭৭ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে প্রত্যেক প্রার্থী ৫৭৭জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে লড়ছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাসদের ইমরান খান (মই), স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া), স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান (ফুটবল), বিএনএফ শামছুল হক (টেলিভিশন), এবি পার্টির রিপন মাহমুদ (ঈগল)। এ আসনে ১৭৫ কেন্দ্রে ৯০৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। একজন প্রার্থীর প্রত্যেক কক্ষে পোলিং এজেন্ট দিতে প্রয়োজন ৯০৫জন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে লড়ছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নিজামদ্দিন অমিত (চশমা), জাতীয় পার্টির খবির গাজী (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির রাশেদ খান (কাস্তে)। এই আসনে ১৯০ কেন্দ্রের এক হাজার ১৮৩ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর এক হাজার ১৮৩ জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল (রকেট), জাতীয় পার্টিও জহুরুল হক (লাঙ্গল), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী (ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র এম, নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ (মোটরসাইকেল)। এ আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের ৮৬৯ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর ৮৬৯জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতের গাজী এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির রশীদ আহমাদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস), জাতীয় পার্টির এম.এ হালিম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মো. কামরুজ্জামান (ফুটবল), ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা)। এ আসনে ১২৮ কেন্দ্রের ৭২০ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর ৭২০জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে লড়ছেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতের মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জি.এম, হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), এবি পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল)। এ আসনে ৮১ কেন্দ্রের ৪২৫ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। এ আসনে একজন প্রার্থীর ৪২৫জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর-২ আসনের বাসদ মনোনীত প্রার্থী ইমরান খান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছি না। ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার উপরই আস্থা রাখছি। আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে।
এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-(বিএমজেপি) মনোনীত প্রার্থী সুকৃতি কুমার ম-ল বলেন, আমার প্রত্যেকটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত আছে। ভোটের দিন তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা সেটি নির্ভর করবে নির্বাচনি পরিবেশের উপর। তাই কৌশলগত কারণে এখনই আমরা পোলিং এজেন্টদের নাম প্রকাশ করছি না।’
সচেতন নাগরিক কমিটি যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন নামকাওয়স্তে। এসব প্রার্থীদের সাধারণ দুটি উদ্দেশ্য থাকে; একটি অসৎ, অন্যটি পরিচিত হওয়ার। আবেগে প্ররোচিত হয়েও কেউ কেউ প্রার্থী হন। তাছাড়া এবার পোস্টার না থাকায় অপরিচিত প্রার্থীদের ভালভাবে চিনতেও পারছেন না ভোটাররা।’

