Logo
Logo
×

সারাদেশ

যশোরে ৬টি আসন

পাঁচটিতে জামায়াত-বিএনপি, একটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

Icon

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৮ এএম

পাঁচটিতে জামায়াত-বিএনপি, একটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ। এবারের নির্বাচনে যশোরে ৬টি আসনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে। একটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও বাকী পাঁচটিতে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরাই হবেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।  জেলায় ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৫ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।

ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দল এবার মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নির্বাচনের বাইরে থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জেলার ৬টি আসনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোট।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী।  এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা)। এ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে লড়ছেন আট প্রার্থী। তারা হলেন- জামায়াত ইসলামীর ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান (ফুটবল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের শামছুল হক (টেলিভিশন), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ইমরান খান (মই), আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (ঘোড়া)।  এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বরেণ্য চিকিৎসক ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ও বিএনপির সাবিরা সুলতানা শক্তিশালী প্রার্থী। মূল লড়াই তাদের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক থাকছে। ফলে বিএনপি ঘরনার কিছু ভোট জহুরুলের ব্যালট বাক্সেও পড়তে পারে।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির খবির গাজী (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজামদ্দিন অমিত (চশমা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জামায়াতের আবদুল কাদেরের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজি, জামায়াতের গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (মোটরসাইকেল), জাতীয় পার্টির জহুরুল হক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল (রকেট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীক নিয়ে মোট সাতজন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এ আসনে জামায়াত ইসলামীর গোলাম রসুল ও বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে জামায়াত ইসলামী মনোনীত গাজী এনামুল হক, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস), বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রশীদ আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এমএ হালিম (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এখানে জামায়াত, বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ জন প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা),  আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান (ঈগল) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা কথা বলছেন ভোটাররা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম