Logo
Logo
×

সারাদেশ

কুমিল্লা-৭

ড. রেদোয়ানের ভরাডুবির নেপথ্যে শাওনের সাংগঠনিক শক্তি

Icon

কুমিল্লা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ এএম

ড. রেদোয়ানের ভরাডুবির নেপথ্যে শাওনের সাংগঠনিক শক্তি

নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন ও ড. রেদোয়ান আহমেদ। ছবি: যুগান্তর

কুমিল্লা-৭ চান্দিনা সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদের ভরাডুবির নেপথ্যে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের সাংগঠনিক শক্তি। গত ২৭ বছর শাওন চান্দিনায় বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠনকে নিজের হাতে সাজিয়ে শক্তিশালী করেছেন। 

পক্ষান্তরে ড. রেদোয়ান আহমেদ এলডিপিকে সাংগঠনিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারেননি। এতে সাংগঠনিক কাঠামো সমৃদ্ধ না থাকায় রেদোয়ান ধরাশায়ী হয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৭ বছর কুমিল্লার চান্দিনায় বিএনপির একমাত্র কান্ডারি ছিলেন আতিকুল আলম শাওন। তিনি ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যন্ত বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠনের শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছেন। এলাকায় অবস্থান করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তার হাত ধরেই এ উপজেলায় বিএনপি এগিয়ে গেছে। এদিকে এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ সংগঠনকে গুছিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেননি। এলাকার রাজনীতিতে বেশি সময় দিতে পারেননি। এতে ওই উপজেলায় এলডিপি শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। 

স্থানীয়রা জানায়, ৫ আগস্টের পর এলডিপি নেতাকর্মীরা এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মামলা বানিজ্য, দখলবাজিসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পৌর এলাকার কয়েকটি পরিবার ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেন। এদিকে ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আতিকুল আলম শাওন ছিল একেবারেই শান্ত। তিনি এবং তার অনুসারীরা মামলা হামলায় জড়ায়নি। এতে এলাকার জনসাধারণ শাওনের পক্ষে বিপুল পরিমাণে রায় দিয়েছে। এদিকে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে হঠাৎ রেদোয়ান আহমেদকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় মেনে নেয়নি তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। বহিষ্কার হলেও তারা শাওনের পক্ষে মাঠে নামেন। এতে কোনভাবেই সুবিধা করতে পারেনি রেদোয়ান। 

স্থানীয়রা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ভোটের মাঠে চমক দেখিয়েছেন তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওন। চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদকে ধরাশায়ী করে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেছেন তিনি। 

শাওন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ৪৩ হাজার ১৮১ ভোট বেশি পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন। ঘোষিত ফলাফলে আতিকুল আলম শাওন সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০। ড. রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।

এর আগে শাওন ২০১৮ সাল থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ৩ দিন আগে হঠাৎ দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বিএনপিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বাগিয়ে আনেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হয় শাওনকে। প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় পদও হারান শাওন। কিন্তু তাতেও বিচলিত হননি তিনি ও তার নেতাকর্মীরা। কঠিন মনোবল ধারণ করে ভোটযুদ্ধে নামেন তিনি।  

শাওনের বিজয়ের নেপথ্যে রয়ছে বাবা মরহুম খোরশেদ আলম ও তার নিজ হাতে গড়া উপজেলা বিএনপি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও কোনো নেতাকর্মী ছেড়ে যায়নি শাওনকে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যকে ধরাশায়ী করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন আতিকুল আলম শাওন। 

কুমিল্লা-৭ আসনে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন বলেন, নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার বিজয় নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আমি বিএনপির কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ওয়ার্ড লেভেল থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করেছি। আর এখানে রেদোয়ান সাহেব হঠাৎ এসেই এমপি হওয়া কোনভাবেই সম্ভব না। তাছাড়া ওনার নেতাকর্মীরা ৫ আগস্টের পর নানা অনিয়ম করেছে। এসব কারণে চান্দিনার জনগণ আমাকে বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, প্রশাসন আমার বিরোধীতা করেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকার পরও বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী আমার বিপক্ষে কাজ করেছে। 

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমার কোনো কর্মী-সমর্থককে অন্যায় করার সুযোগ দেইনি। তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান ছিল। আমি ভোটে হারলেও মাঠে থাকব। বিএনপির নেতৃত্ব দিব। দলকে শক্তিশালী করব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম