Logo
Logo
×

সারাদেশ

প্রাইভেটকার কিনে না দেওয়ায় নিজের গায়ে আগুন দিল যুবক

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

প্রাইভেটকার কিনে না দেওয়ায় নিজের গায়ে আগুন দিল যুবক

ফাইল ছবি।

একটি প্রাইভেটকারের দাবি। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় মুহূর্তের অভিমান আর ক্ষোভ। আর তাতেই আগুনে পুড়ে ছারখার একটি পরিবারের স্বপ্ন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এ ঘটনায় আত্মহত্যার চেষ্টা করে জনি (২৫) নামের এক যুবক। তাকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন তার বাবা শামছুল বিশ্বাস, মা মাফিয়ারা বেগম (৫৫) এবং বড় ভাই মাসুম বিশ্বাস (৩৫)। 

চারজনই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার মিতরা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পরিবারের দাবি, তিনি বাবার কাছে একটি প্রাইভেটকার কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তার যুক্তি ছিল, গাড়িটি ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন। কিন্তু পরিবার রাজি না হওয়ায় বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘরের ভেতর নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে।

চিৎকার শুনে মা, বাবা ও ভাই ছুটে যান। আগুনের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তারা ঘরে ঢুকে জনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাই হয়ে ওঠে বিপর্যয়ের কারণ। আগুনে চারজনই গুরুতর দগ্ধ হন। 

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢামেক বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, জনি এলাকায় নেশাগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। প্রাইভেটকার কেনার টাকা না পেয়ে সে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের সবাই দগ্ধ হয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. হারুনুর রশিদ জানান, দগ্ধ চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শরীরের কত শতাংশ পুড়েছে, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রাইভেটকার কিনে না দেওয়ায় জনি নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম