Logo
Logo
×

সারাদেশ

কীর্তন থেকে ফেরার পথে প্রতিবন্ধীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

Icon

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

কীর্তন থেকে ফেরার পথে প্রতিবন্ধীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতার ৩ জন

ভোলার তজুমদ্দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান কীর্তন থেকে ফেরার পথে প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের তজুমদ্দিন থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের একটি আশ্রমে কীর্তনে আসা এক নারীকে প্রলোভনে নির্জনে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই নারী ভোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম বললে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মো. রাকিব, মো. জুয়েল ও আল আমিন সম্রাটকে গ্রেফতার করে।

এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম তজুমদ্দিন থানায় প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি জানান, রোববার রাতে তজুমদ্দিনে কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এক সন্তানের জননী প্রতিবন্ধী নারীকে আসামিরা প্রলোভন দেখিয়ে অটোগাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং গুরুতর অবস্থায় তজুমদ্দিন থানার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ এলাকার একটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় মামলা করলে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত আসামিরা মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। পরে গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ভোলায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। মামলাটি ভোলার পুলিশ সুপার নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ভোলা জেলা পুলিশ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ভোলা জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী স্বামী পরিত্যক্তা ও এক সন্তানের জননী। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। কথাবার্তাও ঠিকমতো বলতে পারেন না বলে জানান এলাকাবাসী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে চাঁদপুর ইউনিয়নের অনিল বাবাজী আশ্রমে কীর্তনে গেলে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক রাকিব প্রলোভন দিয়ে তাকে নির্জনে নিয়ে যায়। পরে ধোপাবাড়ির পেছনের একটি বাগানে গেলে আরও দুইজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে রাতভর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোরের দিকে শশীগঞ্জ দাসপাড়া এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুলসী রানী জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরের পাশে এক নারীকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তজুমদ্দিন উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অনিল বাবাজী আশ্রমের পরিচালক অরবিন্দু দে টিটু বলেন, সকালে স্বপন কুমার দাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ভিকটিমকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুল আলম সোহেল জানান, ২৫ বছর বয়সি এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম