ইয়াবা কারবারের প্রতিবাদ করায় কয়লা ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টায় মামলা
যুগান্তর প্রতিবেদন, তাহিরপুর
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
মামলার আসামি রুহুল আমিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়াবা কারবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সিরাজুল ইসলাম নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত কয়লা ব্যবসায়ীকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আহত সিরাজুল উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম চারগাঁওর আব্দুস শহীদের ছেলে ও চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনের কয়লা ব্যবসায়ী।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামির নাম রুহুল আমিন। তিনি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম চারগাঁওর মৃত আরজু মিয়ার ছেলে। ওই মামলায় একই গ্রামের রুবেল, রাজুসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশাদার ইয়াবা ডিলার, ইয়াবাসেবী রুহুল আমিন গত কয়েক বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গাজীপুরের গার্মেন্টস থেকে সপরিবারে নিজ এলাকা তাহিরপুরের সীমান্ত গ্রাম চারাগাঁও ফিরে এসে ফের ইয়াবার কারবার ও ইয়াবা সেবন শুরু করেন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিপো থেকে কয়লা চোর চক্র গড়ে তোলেন।
কয়লা ব্যবসায়ী সিরাজুলসহ এলাকার মানুষ এর প্রতিবাদ জানান; কিন্তু এর প্রতিকার না হয়ে কিছু প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে রুহুল চক্র।
এর জের ধরে রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার চারাগাঁও নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনে যাওয়ার পথে সমিতির সামনের সড়কে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে রুহুল চক্র সিরাজুলের পথরোধ করে। ধারাল চাকু দিয়ে আঘাত করে সিরাজুলকে রক্তাক্ত জখম করে। রুহুলের সঙ্গে থাকা একই গ্রামের রুবেল, রাজুসহ আরও ৫-৬ জন লোহার রড, কাঠের রোল দিয়ে সিরাজুলকে বেধড়কভাবে পিটিয়ে সড়কে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২ মার্চ) নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উপজেলার চারাগাঁও, কলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি, বাঁশতলা সীমান্ত জনপদের নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এলাকায় ফিরে এসে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার সঙ্গে সেলফি আর ছবি ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে রুহুল তার প্রভাব জানান দেন। এরপর প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের বিভিন্ন ডিপো থেকে রাতের আঁধারে কয়লা চুরি, সীমান্তের ওপার থেকে চোরাচালানের কয়লা নিয়ে আসার চক্র গড়ে তোলেন।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কনকন তালুকদার, চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনের কয়লা ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মোফাজ্জল হোসেন জানান, সুনামগঞ্জের একজন কয়লা আমাদানিকারকের চারাগাঁও কয়লার ডিপোতে কয়লা চুরি করতে গিয়ে বেলচা, লোহার শাবলসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন রুহুল। এরপর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ডিপো থেকে কয়লা চুরির পর তার বাড়ি থেকে চুরির কয়লা উদ্ধারের পর রুহুল কয়েক বছর আগে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে পালিয়ে যান। আওয়ামী সরকার পতনের পর এলাকায় ফিরে এসে আবার নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সোমবার অভিযোগের বিষয়ে রুহুল বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরেই সিরাজুলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অতীতে কয়লা চুরি এবং বর্তমানে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে কয়লা ব্যবসায়ী সিরাজুলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
