ভাইদের ফাঁসাতে ডাকাতির নাটক প্রবাসীর!
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজের ভাই ও জেঠাত ভাইদের ফাঁসাতে ‘দুর্ধর্ষ ডাকাতি’ ও ‘শ্লীলতাহানির’ নাটক সাজিয়েছিলেন সৌদি প্রবাসী বেল্লাল হোসেন।
শনিবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের চাপে অভিযুক্ত প্রবাসী বেল্লাল হোসেন স্বীকার করেছেন, নিজের ভাই ও জেঠাত ভাইদের ফাঁসানোর জন্য পুরো ঘটনাটি ছিল তার সাজানো পূর্বপরিকল্পিত একটি নাটক। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে ভাই-জেঠাত ভাইরা অন্তত ছয়টি মামলা দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার ক্ষোভ থেকে এমনটা ঘটিয়েছেন বলে তর্কে জিততে চান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রবাসী বেল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার জেঠাত ভাই আব্দুল মন্নানের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে অন্তত ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পুকুরের পানি ব্যবহার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই গত ১ মার্চ বিদেশ থেকে ফিরে একদিন পরই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই চক্রান্তের জাল বোনেন বেল্লাল।
জেঠাত ভাই মন্নানকে ঘায়েল করতে বেল্লাল ও তার স্ত্রী মারজাহান গভীর রাতে নিজের ঘরের বেড়া কাটেন এবং স্টিলের আলমারি ভাঙচুর করে মালামাল তছনছ করেন। ঘটনাটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নিজের স্ত্রীর কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ও মারধরের নাটক সাজিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘর থাকা স্বর্ণালংকার, বিদেশি ডলার ও নগদ টাকাসহ অন্তত ১০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির অংক দাঁড় করান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘরের তছনছ করা মালামালের দৃশ্য ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন এবং তড়িঘড়ি করে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি নজরে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে স্থানীয় চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি ডা. আলী আহাম্মদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বেল্লালকে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় চৌধুরী বাজারের একটি ফার্মেসিতে বেল্লাল ও জেঠাত ভাই মন্নানকে ডেকে এনে স্থানীয় মসজিদ সভাপতি, স্কুল শিক্ষক, ওই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেল্লাল স্বীকার করেন, জেঠাত ভাই আব্দুল মন্নানকে ফাঁসাতে এবং আগের মারামারির বদলা নিতেই তিনি এ ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন।
চরমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আলী আহাম্মদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বেল্লাল তার ভাই-জেঠাত ভাইদের ফাঁসাতে এই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। ডাকাতির ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছি এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছি।
স্থানীয় হাজীপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ও একাধিক এলাকাবাসী জানান, বেল্লাল অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন এবং ফেসবুকের মাধ্যমে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি ও বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে তারা বেল্লালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের (ফাঁড়ি) ইনচার্জ আজাদ উদ্দিন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
