কুড়িয়ে পাওয়া দেড় লাখ টাকা নিয়ে মাইকিং, অতঃপর...
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
টাকার ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দরিদ্র চা দোকানি জুবায়ের মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক বৃদ্ধের ফেলে যাওয়া টাকার ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দরিদ্র চা দোকানি জুবায়ের মিয়া (৪২)। টাকা ফেরত পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিরাজ শেখ (৬৬)।
স্থানীয়রা জানান, মিরাজ শেখ ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহ মুল্লুকদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি হার্টের সমস্যার জন্য চিকিৎসক দেখাতে উপজেলা সদরে আসেন। তিনি দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পাশে জুবায়ের মিয়ার দোকানে চা পান করেন। সেখানে তিনি ভুলবশত ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকাভর্তি একটি ব্যাগ ফেলে যান। জুবায়ের ভাঙ্গা পৌরসদরের চন্ডীদাসদী মহল্লার বাসিন্দা।
ওই বৃদ্ধ দোকান থেকে চলে যাওয়ার অনেক পরে টাকার ব্যাগটি জুবায়ের মিয়ার চোখে পড়ে। ব্যাগটি পেয়ে মালিককে খুঁজতে থাকেন তিনি। মালিককে না পেয়ে একদিন পর তিনি ভাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় নিজ খরচে মাইকিং করান। টাকার প্রকৃত মালিককে প্রমাণসহ ব্যাগটি নিতে আহ্বান জানান।
মাইকিংয়ের খবর শুনে মিরাজ শেখ বুঝতে পারেন, ওই দোকানেই তিনি বসেছিলেন। এর আগে টাকা কোথায় পড়ে গেছে, তা তিনি জানতেন না। তিনি ভাবতেও পারেননি, কেউ টাকা পেয়ে প্রকৃত মালিককে পাওয়ার জন্য মাইকিং করবেন।
এদিকে জুবায়ের ভাঙ্গার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বিষয়টি জানান। প্রকৃত মালিককে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য তার সহযোগিতা চান। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অবশেষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমের অফিস কক্ষে প্রকৃত মালিক মিরাজ শেখকে তার হারানো ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জুবায়ের মিয়া বলেন, আমি টাকার ব্যাগ পেয়ে হতবাক হয়ে পড়ি। কিন্তু পরের টাকা রাখার ক্ষমতা আমার নেই। টাকার প্রকৃত মালিককে খোঁজার জন্য আমি মাইকিং করি। এছাড়া আমি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নিকট বিষয়টি জানাই। এরমধ্যে খবর পাই এক বৃদ্ধ টাকা হারিয়েছেন। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি প্রমাণসহ তাকে ভাঙ্গা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিসে আসতে বলি। সহকারী কমিশনারের তত্ত্বাবধানে হারানো টাকা প্রকৃত মালিককে দিতে পেরে আমি খুশি।
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে বৃদ্ধ মিরাজ শেখ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ওই দিন তিনি তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকাটি তুলেছিলেন। চিকিৎসক জানান, তার চিকিৎসা ঈদের পর হবে। এজন্য তিনি ব্যাগে ভরে টাকাটি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাড়ি গিয়ে দেখেন, টাকার ব্যাগটি নেই। টাকার চিন্তায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। তিনি ভাবেননি চায়ের দোকানে টাকার ব্যাগ ফেলে এসেছেন।
তিনি বলেন, জুবায়ের মিয়া অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি সৎ না হলে এই টাকা আজ আমি ফেরত পেতাম না। ব্যাগের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং কিছু ওষুধ ছিল। আমি সঠিক প্রমাণ দিতে পেরে আমার বৃদ্ধ বয়সের সঞ্চিত চিকিৎসার টাকা ফেরত পেয়েছি। এই টাকাগুলো না পেলে আমার চিকিৎসা করাই সম্ভব হতো না।
ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, কিছুদিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভা এলাকার চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, স্যার, আমি বেশ কিছু টাকা পেয়েছি। প্রকৃত মালিককে প্রমাণ সাপেক্ষে ফেরত দিতে চাই। তিনি আমার সহযোগিতা চান। আমি তাকে আশ্বস্ত করি। হারানো টাকা প্রকৃত মালিককে প্রমাণ সাপেক্ষে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি। চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া সততার প্রমাণ দিয়েছেন।
