তারাগঞ্জে জামাই-শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যায় আরও এক আসামি গ্রেফতার
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মজিদুল ইসলাম (২৪) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
মজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে জামাই-শ্বশুর হত্যার ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চত করেছেন র্যাব-১৩ রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ অভিযানে জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মজিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট শনিবার দিনগত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় মলমপার্টি (ছিনতাইকারী) সন্দেহে রূপলাল রবিদাস (৪০) ও প্রদীপলাল রবিদাসকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা।
এ ঘটনার পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগ্নি জামাতা প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রুপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এক পর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান। এতে উত্তেজিত জনতা দুইজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।
পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রুপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।
