আখাউড়ায় মাল আটকে ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়িতে তেল ভরার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। ভূক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী হলেন আখাউড়া সড়ক বাজারের আরাধনা স্টোরের স্বত্বাধিকারী জুয়েল খান।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহর থেকে মাল কিনে ফেরার পথে আখাউড়া কুমার পাড়া এলাকায় সাব ইন্সপেক্টর সুমন ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ী জুয়েল খান শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে, আখাউড়া থানার ওসি মো. জাবেদ উল আলম টাকা চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দোকানের জন্য বাচ্ছাদের খেলনা, চুরি, চুলের বেন, চশমা ইত্যাদি মালামাল কিনে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহর থেকে সিএনজি করে আসার পথে শহরের কুমার পাড়া রেলক্রসিং এলাকায় এসআই সুমন সিএনজি থামিয়ে মালামাল চেক করে ক্রয়ের রশিদ দেখতে চায়। কাগজপত্র দেখানের পরও আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। আমাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে আমার চাচা পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আক্তার খান গিয়ে ছাড়িয়ে আনেন।
ক্রয় করে সিএনজি করে আখাউড়া ফেরার পথে পৌরশহরের কুমার পাড়া রেলক্রসিং এর দক্ষিণ পূর্ব পাশে একটি পুলিশের ভ্যান থেকে এসআই সুমন আমার মালামাল খুলে চেক করে এবং ক্রয়ের রশিদ দেখাতে বলে। আমি ক্রয়ের রশিদ দেখানোর পর নানারকম কথা বলে আমাকে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে তেল ভরার জন্য আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চায় এসআই সুমন। আমি অনেক অনুরোধ করা স্বত্বেও আমাকে প্রায় ১ ঘণ্টা আটকে রাখে। অবশেষে আমি আমার চাচা মো. আক্তার খানকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে এসআই সুমনের কাছে আমাকে আটকের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। উপরন্তু বিএনপি নেতা আক্তার খানের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হবে বললে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খান বলেন, আমার ভাতিজা জুয়েল খান দীর্ঘদিন ধরে আখাউড়া সড়ক বাজারে কমমেটিক্স ব্যবসা করে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তার গাড়ি আটকে রেখে খবর পেয়ে মোবাইল ফোনে পুলিশকে অনুরোধ করে বলি তাকে ছেড়ে দিতে । কিন্তু পুলিশ তাকে ছাড়েনি। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই সুমনকে বলি জুয়েল খান একজন বৈধ ব্যবসায়ী। তার কাছে টাকা চান কেন।
এসআই সুমন আমাকে বলেন, কিছু টাকা নিয়ে দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমি ওসি সাহেবকে ফোন করে জানাই। কিন্তু তিনিও আমাকে আর কিছু জানাননি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ মানুষকে এভাবে হয়রানি করলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে।
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী জুয়েল খান বলেন, ৩৫ বছর ধরে সড়ক বাজারে সুনামের সঙ্গে কসমেটিক্স ব্যবসা করি। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের মার্কেট থেকে ঈদ উপলক্ষে দোকানের জন্য বাচ্ছাদের খেলনা, চুরি, চুলের বেন, চশমা ইত্যাদি কিনে নিয়ে আসার পথে শহরের কুমার পাড়া রেলক্রসিং এলাকায় এসআই সুমন আমার মালামাল চেক করে ক্রয়ের রশিদ দেখতে চায়। কাগজপত্র দেখানের পরও আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। আমাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে আমার চাচা বিএনপি আক্তার খান গিয়ে ছাড়িয়ে আনেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদ উল আলম বলেন, পুলিশ মালামাল চেক করতেই পারে। কিন্তু টাকা চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আর টাকা চাইরে ৫ হাজার কেন আরও বেশি চাইতে পারত। আমার মনে হয়, মালামাল চেক করায় ওই ব্যবসায়ি ক্ষুব্দ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
