গাঁজা খাওয়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে অটোরিকশাচালককে গলাকেটে হত্যা
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জের ঘিওরে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে অটোরিকশাচালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর নিহতের মাথা-শরীর বিচ্ছিন্ন করে কালীগঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করেছে ঘাতকরা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা যায়, ২৪ মার্চ রাতে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশাচালক রফিককে গাঁজা সেবনের কথা বলে ডেকে নেয় তার পরিচিত তিনজন। তারা হলেন- নির্মাণ শ্রমিক রিপন, সজিব ও আরমান। অন্য একটি অটোরিকশায় করে তারা তাকে নিয়ে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে যান। যেখানে আগে থেকেই সাজানো ছিল মৃত্যুর ফাঁদ।
সেখানে পৌঁছানোর পর আচমকাই পালটে যায় দৃশ্যপট। পিবিআই বলছে, প্রথম আঘাতটি আসে আরমানের হাত থেকে—হাতুড়ির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রফিক। রিপন দা দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় আরমান ও সজিব যথাক্রমে হাত ও পা চেপে ধরে রাখে, যেন হত্যার কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করা যায়।
হত্যার পরও থামেনি তাদের নিষ্ঠুরতা। প্রমাণ গোপনের চেষ্টায় মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু শরীর ভেসে ওঠায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। এরপর পেট কেটে নদীতীরে ফেলে রেখে যায়, যাতে লাশ দ্রুত ডুবে যায়। ঘটনার পর ভোররাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন সাভারের দিকে পালিয়ে যান।
২৫ মার্চ বিকালে কালীগঙ্গা নদী থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপরই ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে নামে পিবিআই। মাত্র ২৪ ঘণ্টার অভিযানে প্রযুক্তির সহায়তায় ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে ঘাতক সদস্য রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী পিবিআই অফিসে এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। নেপথ্য কারণ উদঘাটন নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যা। বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
