Logo
Logo
×

সারাদেশ

হুইপ নিজানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট

Icon

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

হুইপ নিজানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান

‘আল্লাহ আমার জীবনের সকল চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেছেন। আল্লাহর কাছে এখন একটাই চাওয়া আল্লাহ যেন আমাকে একটি সুন্দর মৃত্যু দান করেন।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া তার এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

নেতার এমন আধ্যাত্মিক ও মরমী উপলব্ধি দেখে তার নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তার দীর্ঘায়ু কামনা করে মন্তব্য করেছেন।

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের রাজনীতিতে এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের জোরালো ভূমিকা পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের ‘হুইপ’ হিসেবে দায়িত্ব পান।

মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙন রোধে এবং বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে তাকে ‘উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে পরিচিত করেছে। রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির  শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক  হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

সাধারণত সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। তবে হুইপ নিজানের এই জীবনমুখী ও পরকাল-নির্ভর পোস্টটি সাধারণ মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফলতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেও জীবনের নশ্বরতাকে স্বীকার করা একজন নেতার মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেরই পরিচয় দেয়।

এদিকে পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামগতি ও কমলনগর এলাকার মানুষ তাকে একজন নির্লোভ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রশংসা করছেন।

পোস্টের কমেন্টে মোশাররফ হোসেন রাসেল নামের একজন লিখেছেন- ‘এ ধরনের বক্তব্য একজন মানুষের গভীর ঈমান, কৃতজ্ঞতা ও আত্মজিজ্ঞাসার পরিচয় দেয়। দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার পর আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি কামনা করা সত্যিই প্রশংসনীয়। আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্থতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের সেবায় অবিচল থাকার তৌফিক দেন এবং জীবনের শেষটা শান্তি ও সম্মানের সঙ্গে কবুল করেন।’

মো. মিরাজ লিখেছেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য একজন মানুষের গভীর ঈমান, কৃতজ্ঞতা ও আত্মজিজ্ঞাসার পরিচয় দেয়। দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার পর আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি কামনা করা সত্যিই প্রশংসনীয়। আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্থতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের সেবায় অবিচল থাকার তৌফিক দেন, এবং জীবনের শেষটা শান্তি ও সম্মানের সঙ্গে কবুল করেন।’

এইচএম ফারুকী লিখেছেন, ‘সৃষ্টিকর্তার মূল্যায়নে সন্তুষ্ট হওয়ার চমৎকার আত্ম উপলব্ধি! মহান আল্লাহ আপনার আরো সম্মান বৃদ্ধি করুন, আমিন।’

পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামগতি ও কমলনগরের মানুষ তাকে একজন নির্লোভ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রশংসা করছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম