Logo
Logo
×

সারাদেশ

ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল

ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা ভোট চেয়ে মিছিল করেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম এ ব্যাপারে তদন্ত করতে ওই আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান হাবিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসার জানান, তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার রাতে এ নির্দেশ দেন।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল বিকালে বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল চত্বর থেকে ‘জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হয়। হাসপাতাল চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিল শেরপুর রোড হয়ে শহরের সাতমাথা ঘুরে আবার হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এতে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে ভোট চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর নাম প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কিভাবে প্রকাশ্যে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেন, কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি বদলি বা চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে তাদের মিছিলে যেতে বাধ্য করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার পর গত ৭ এপ্রিল জারি করা এক চিঠিতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-২০১৮ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনের সময় কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বগুড়ার জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ফজলুল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। যদি এ রকম করে থাকেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল নামের আগে ‘অধ্যক্ষ’ ব্যবহার করায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ওই প্রার্থী নামের আগে ‘অধ্যক্ষ’ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।

রিটার্নিং অফিসার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দেন। এরপর চেয়ারম্যান জামায়াত প্রার্থীকে নোটিশ করেছেন। তাকে নামের আগে ‘অধ্যক্ষ’ ব্যবহারের স্বপক্ষে কাগজপত্র ও প্রমাণ দ্রুত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম