Logo
Logo
×

সারাদেশ

নোঙর তুলেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, কাল অতিক্রম করবে হরমুজ প্রণালি

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

নোঙর তুলেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, কাল অতিক্রম করবে হরমুজ প্রণালি

নোঙর তুলেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, কাল অতিক্রম করবে হরমুজ প্রণালি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে প্রায় এক মাসের বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। এ সময়ে নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ছিল ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনা।

অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে ‘বাংলার জয়যাত্রার’ ৩১ নাবিকের। ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সেই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।

বুধবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানকার রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে জাহাজটি। এটি বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।

‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ।

বিএসসি সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮শ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়।

পণ্য খালাস শেষে জাহাজটি পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রা মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হতো। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

ওই সময় আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডের সদস্যরা জাহাজটিকে নিরাপদে সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই জাহাজটি শারজাহ বন্দরের জলসীমায় অবস্থান নিয়ে ছিল। এ সময় প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ থেকে মিসাইল বা ড্রোন হামলা দেখেছেন নাবিকরা।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চালানোর পর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আইজিআরসির সঙ্গে কথা বলবে। পারমিশন পেলেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে। জাহাজে বর্তমানে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে।

বুধবার বিকালে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ৫টায় জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদুল হাসান বলেন, হরমুজ প্রণালি আমাদের জাহাজ থেকে ৩৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে। আমাদের জাহাজ ঘণ্টায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে আমরা হরমুজ অতিক্রম করতে পারব আশা করি। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে।

তিনি আরও বলেন, এতদিন ধরে আমরা সবাই একটা মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এখন অনেকটাই মুক্ত অবস্থার মতো। সবাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম