নিখোঁজের পর মাদ্রাসাছাত্রের গলিত লাশ মিলল কিশোরগঞ্জের জঙ্গলে

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

নিহত মাদ্রাসাছাত্র ওবায়দুল্লাহ মুন্না

গত অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সাহেদল ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার মাদ্রাসাছাত্র ওবায়দুল্লাহ মুন্না নিখোঁজ হয়েছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন।

২১ দিন পর মঙ্গলবার সকালে সেই মুন্নার গলিত লাশ পাওয়া গেল এলাকার একটি জঙ্গলে। পুলিশের ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নিহত ওয়াবদুল্লাহ মুন্না সাহেদল মধ্যপাড়ার নূরুল হুদার ছেলে। সে স্থানীয় সাহেদল ডিএস দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ভোরবেলায় ইউনিয়নের দড়িয়াবাজ গ্রামের জামাল হাজির বাড়ির জঙ্গলে এলাকার লোকজন অর্ধগলিত লাশটি দেখতে পায়। এ সময় স্থানীয় শত শত লোক সেখানে ভিড় করে। খবর পেয়ে মুন্নার বাবা নূরুল হুদা ও মা মেহেরা খাতুন, ছেলের গেঞ্জি, প্যান্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে তাদের সন্তানকে শনাক্ত করেন।

এ সময় ওই এলাকায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মুন্নার মা মেহেরা খাতুন জানান, ১৫ অক্টোবর মাদ্রাসা থেকে ফিরে খবার খেয়ে বিকালে বাড়ি থেকে বের হয় মুন্না। পরে আর বাড়িতে ফিরে যায়নি সে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি তারা। এরপর গত ১৭ অক্টোবার ছেলের সন্ধান চেয়ে নূরুল হুদা হোসেনপুর থানায় একটি জিডি করেন। কিন্তু পুলিশও ছেলেটির কোনো সন্ধ্যান দিতে পারেনি।

জানা গেছে, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মেয়ের সঙ্গে মুন্নার প্রেমঘটিত ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তবে মুন্নার বাবা নূরুল হুদা সাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করে বলেন, তার ছেলেকে তারাই অপহরণ করে হত্যা করেছে। এবং লাশ জঙ্গলে গুম করে রাখে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ছেলে নিখোঁজের আগের দিন ওই ইউপি সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও শাসিয়ে যান।

তিনি আক্ষেপ করেন বলেন, তার ছেলে কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে পারে না। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে বিকালে ইউপি সদস্য বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে ওই ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হোসেনপুর থানার ওসি মো. আবুল হেসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় যায়নি। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। আগে মামলা হোক, তদন্ত না করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×