সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনীত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা
কমলনগর-রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
বীথিকা বিনতে হোসাইন। ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বীথিকা বিনতে হোসাইন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী।
জানা গেছে, বীথিকা বিনতে হোসাইন বর্তমানে জনকল্যাণমূলক সংগঠন ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী বীথিকা স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেকে গৃহবন্দি না রেখে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন। ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে নির্যাতিত ও আর্থিক সংকটে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিক নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীথিকা বিনতে হোসাইনের এ মনোনয়ন প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর ত্যাগের প্রতি দলের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতিফলন।
এদিকে তার এ সাফল্যে রামগতি ও কমলনগরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কমলনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তারেক রহমান রকি বলেন, শফিউল বারী বাবু ছিলেন রাজপথের অকুতোভয় নেতা। তার অসময়ে চলে যাওয়ায় যে অপূরণীয় ক্ষতি ছিল, আজ ভাবি (বীথিকা বিনতে হোসাইন) এমপি মনোনীত হওয়ায় সেই ক্ষত কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তে আমরা কমলনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, এ অর্জন আমার নয়; এটি শহীদ জিয়ার আদর্শ ও প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর প্রতি জনগণের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। দেশনায়ক তারেক রহমান আমার ওপর যে আমানত অর্পণ করেছেন, আমি যেন জনগণের সেবা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি- এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।
মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীথিকা বিনতে হোসাইন আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান দুর্ভোগ হলো মেঘনার ভাঙন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদীবাঁধ নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করতে এবং এ জনপদকে রক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব।
তিনি জানান, এ অঞ্চলের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নসহ পিছিয়ে থাকা এ জনপদকে একটি স্মার্ট ও উন্নত অঞ্চলে রূপান্তর করতে তিনি বদ্ধপরিকর। শফিউল বারী বাবুর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণ করা এবং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য।

