বগুড়ায় বাবাকে গলাকেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

  বগুড়া ব্যুরো ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া

বগুড়ার সোনাতলায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নছিমুদ্দিন প্রামানিককে গলাকেটে হত্যার দায়ে ছেলে সামেদ আলী প্রামানিককে (৪৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তিন সহোদরকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বগুড়ার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম ফারুক এ রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন সোনাতলা উপজেলার রংরারপাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে ও নিহত বৃদ্ধের ভাতিজা ঝলু মিয়া প্রামানিক (৩৫), টুকু মিয়া প্রামানিক (৫৫) এবং কাশেম প্রামানিক (৫০)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার রংরারপাড়া গ্রামের মৃত মিয়াজানের ছেলে নছিমুদ্দিন প্রামানিক স্ত্রী মোমেনা বেগমকে নিয়ে সাতবেকী আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর ব্যারাকের ১০ নম্বর রুমে বসবাস করতেন। তাদের ছেলে সামেদ আলী প্রামানিক ও অন্য আসামি তিন ভাতিজার সঙ্গে জমি নিয়ে আত্মীয় সিরাজুল ইসলামের বিরোধ চলছিল।

আসামিরা প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজছিল। গত ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে বৃদ্ধের স্ত্রী মোমেনা বেগম ছেলে মোহাম্মদ আলীর সন্তান দেখতে রংরারপাড়া গ্রামে যান। এ সুযোগে আসামিরা পরিকল্পনা অনুসারে রাতে আবাসন প্রকল্পের ব্যারাকে গিয়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধ নছিমুদ্দিন প্রামানিককে ঘর থেকে তুলে পার্শ্ববর্তী সিরাজুলের ধানক্ষেতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা করে। পরদিন সকালে সোনাতলা থানা পুলিশ রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের অপর ছেলে মসরুর রহমান প্রামানিক সোনাতলা থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মহিউদ্দিন হত্যায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ছেলে সামেদ আলী প্রামানিক ও তিন চাচাতো ভাই ঝুলু মিয়া, টুকু মিয়া এবং কাশেমকে গ্রেফতার করেন।

এদের মধ্যে সামেদ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয় এবং অপর আসামিদের নাম প্রকাশ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। অন্য তিন আসামি জামিনে থাকলেও সামেদ আলী কারাগারে ছিল।

চার্জশিটে ও স্বীকারোক্তিতে নাম থাকার পরও তিন আসামি খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে আদালতের অতিরিক্ত পিপি পদ্ম কুমার দেব জানান, সাক্ষীদের অসহযোগিতার কারণে ওরা খালাস পেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি বিনয় কুমার দাস বিষু ও আসামিপক্ষে রেজাউল করিম মন্টু এবং আবদুস সালাম মামলা পরিচালনা করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×