পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার
বেনাপোলে ব্যবসায়ী-যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মো. কামাল হোসেন, বেনাপোল
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সীমিত হয়ে যাওয়া বন্দর কার্যক্রমের প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এর মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় প্রথমবারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ায় ভারত–বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ বাড়লে সীমান্ত বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আ. রহিম বলেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। সেখানে প্রাদেশিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আশা করি নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬শ থেকে ৭শ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। বর্তমানে তা কমে ৩শ থেকে ৪শ ট্রাকে নেমে এসেছে। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে এবং পণ্য খালাসে সময়ও বেড়েছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন বলছেন, সীমিত কার্যক্রমের কারণে শুধু বাণিজ্যই নয়, পরিবহণ খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়ায় একটি অংশের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের চিত্রও পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার যাত্রী পারাপার হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজারে। ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং সময়ক্ষেপণকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভিসা সমস্যার কারণে ভারতীয় ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পণ্যের মান যাচাই, দরদাম এবং সময়মত চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা আগের মতো স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। নানা ধরনের প্রশাসনিক ও ভিসাজনিত জটিলতা বাড়ছে।
আমদানিকারক শরিফুল ইসলাম বলেন, ভিসা না পেলে ব্যবসার কাজ প্রায় বন্ধের মতো অবস্থা হয়। সময়মতো যোগাযোগ না থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
রপ্তানিকারক শফিকুল ইসলাম বলেন, পণ্য সময়মতো পাঠানো না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ি। এটা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার ওপর চাপ ফেলছে।
স্থানীয় ট্রান্সপোর্ট ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও জানিয়েছেন, ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পরিবহণ খাতে আয়ের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। অনেকে বিকল্প কাজের সন্ধানে রয়েছেন।
এদিকে বন্দরকেন্দ্রিক এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় লাভলু হোসেন বলেন, বন্দর ভালো চললে আমাদের দোকানপাটে বেচাকেনা বাড়ে, আয়ও বাড়ে।
রবিউল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, স্বাভাবিক অবস্থা না ফিরলে আমাদের জীবনযাত্রায় চাপ আরও বাড়বে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়লে বন্দর কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল হবে। সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ এলে বাণিজ্য প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
