Logo
Logo
×

সারাদেশ

প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ

স্কুলের গাছের আম পেড়ে খাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে এ কেমন শাস্তি

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

স্কুলের গাছের আম পেড়ে খাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে এ কেমন শাস্তি

বগুড়া সদরের বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে তিন শিক্ষার্থীকে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগমকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন এসব তথ্য দিয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল কয়েকজন শিক্ষার্থী বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খায়। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগম ক্ষুব্ধ হন। তিনি পরদিন বিকালে চতুর্থ শ্রেণির দুইজন ও পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। আম চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাদের জুতা/স্যান্ডেলের মালা গলায় পরিয়ে ও ‘আমচোর’ লেখা কাগজ শরীরে আটকিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরান। প্রধান শিক্ষিকার এ কাজে কয়েকজন শিক্ষকও সহযোগিতা করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের ক্ষোভের মুখে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতেও তারা সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধান শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বগুড়া সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবির গত ৩ মে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এছাড়া বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।

কমিটির প্রধান বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবির মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য নেন। বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।

অন্য শিক্ষকরা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। ফোন বন্ধ রাখায় এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য শিক্ষকরাও অভিযোগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আবু সালেহ নামে স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, স্কুলের গাছের আম পেড়ে খাওয়ায় এহেন শাস্তির পর শিশুদের মধ্যে ভয় ও লজ্জা দেখা দেয়। তোপের মুখে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও অভিভাবকরা ওই ঘটনায় জড়িত প্রধান শিক্ষিকাসহ সকল শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মঙ্গলবার বিকালে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন জানান, তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম