জয়পুরহাটে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ জনের মৃত্যুতে দুই তদন্ত কমিটি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাট শহরের আরামনগর এলাকায় গত বুধবার রাতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে একই পরিবারের ৮ জনের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্ম্দ জাকির হোসেনের নির্দেশে  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সোনিয়া বিনতে তাবিবকে প্রধান করে গঠিত জেলা প্রশাসনের  ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র রায় ও সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাজ্জাদ হোসেন।  

অপর দিকে পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হাসানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে  প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিটির অপর দুই সদস্য হলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) আবু হেনা মোস্তফা কামাল  ও  ওসি (ডিবি) মো. ফরিদ হোসেন। 

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে এবং জেলা পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কমিটিকে  ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাৎ আজ শনিবারের মধ্যে যথাক্রমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন  ও পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হাসানের কাছে এ ঘটনার পৃথক রিপোর্ট প্রদান করবে।

এ দিকে শুক্রবার সকাল থেকে জয়পুরহাট শহরের আরামনগর এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী আগুনে পুড়ে নির্মমভাবে নিহত আব্দুল মোমিনের পোড়া বাড়িটি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার নারী পুরুষ । বাড়িটির ভেতরে বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে প্রাণহীন পোড়া, কয়লাসম বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ।কেবল  বাড়িটিতে নেই কোনো  প্রাণের সাড়া।  ওই পরিবারের একজন সদস্যও বেঁচে নেই। পোড়া বাড়িটি এখন যেন একটি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে জয়পুরহাট শহরের আরামনগর এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিনের বাড়িতে তার মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানরা  (পরিবারের সবাই) ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে তিনি নিজেসহ ওই পরিবারের ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত ও  গুরুতর দগ্ধ হন ৫ জন।  ওই রাতেই  উন্নত চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যাওয়ার পথে একে একে তারা সবাই মারা যান। গুরুতর দগ্ধ  ৫ জনের  মধ্যে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েরর বার্ন ইউনিটে নেয়ার পথে বগুড়ার কাছে দুজন, টাঙ্গাইলের কাছে দুজন এবং সর্বশেষে ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিনের বাবা দুলাল হোসেন ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েরর বার্ন ইউনিটে বারান্দায় পৌঁছার পর মারা যান।