বিক্রির জন্য প্রস্তুত ২৭ মণের ‘ভৈরবের বস’
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন সাদ্দাম হোসেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের রামশংকরপুর এলাকার বাসিন্দাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক বিশাল আকৃতির গরু। স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘ভৈরবের বস’। ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের সাদা-কালো এই বিশাল গরুটিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে মানুষের কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় এক হাজার ১০০ কেজি ওজনের (প্রায় ২৭ মণ) এই গরুটি লালন-পালন করে ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেন।
মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন পেশায় একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শখের বসে গত তিন বছর ধরে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু লালন-পালন করছেন।
সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি হাট থেকে মাত্র ৮০ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের বাছুরটি তিনি কিনেছিলেন। দীর্ঘ এ সময়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। নিজের জমিতে উৎপাদিত ঘাস, গমের ভুসি ও খৈলসহ প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিন বছরে গরুটির পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় এক হাজার ১০০ কেজি বা ২৭ মণের বেশি। গরুটির দাম হাঁকছেন ৯ লাখ টাকা। বিশাল দেহ এবং শান্ত স্বভাবের কারণে অনেক ক্রেতাই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় প্রতিবেশী নাদিম মিয়া বলেন, সাদ্দাম নিজের মেধা ও পরিশ্রমে এই অর্জন করেছেন। তিনি যদি ভালো দাম পান, তাহলে এলাকায় আরও অনেক যুবক আধুনিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালনে আগ্রহী হবে।
ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার ভৈরবে প্রায় দুই হাজার খামারে ২৮ হাজার গরু লালন-পালন করা হয়েছে।এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার চাহিদাও মিটবে। ‘ভৈরবের বস’ নামের এই গরুটি ইতোমধ্যে সেরা পালনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা আশা করি, এটি ভালো দামে বিক্রি হবে।
