Logo
Logo
×

সারাদেশ

গাজীপুরে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে সুইমিং পুলে ভিড়

Icon

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

গাজীপুরে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে সুইমিং পুলে ভিড়

গাজীপুরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমে কিছুটা আরাম ও স্বস্তির আভাস খুঁজে গাজীপুরের বিভিন্ন বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অপরদিকে এসব সুইমিং পুলে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন পার্ক

মালিকরা।

এদিকে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভিড়ে গোসলের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এলাকাবাসী, দর্শনার্থী ও বিনোদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত

কয়েকদিন ধরে গাজীপুরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে মানুষের মাঝে হাঁস-ফাঁস পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আর এই ভ্যাপসা গরমে কিছুটা হলেও আরাম ও স্বস্তির খুঁজে বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার নন্দন পার্ক, সোহাগপল্লী, রাঙ্গামাটি ওয়াটারফ্রন্ট, গোলবাগিচা, শাহিনবাগসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের ঢল।

এসব বিনোদন কেন্দ্রের কৃত্রিম সুইমিং পুলগুলোতে কয়েকদিন ধরেই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গোছলের ব্যবস্থা রয়েছে। আর তীব্র গরমের কারণে সকাল সকাল অনেকেই পরিবার, পরিজন নিয়ে সরাসরি সুইমিং পুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। স্বস্তির খুঁজে কেউ পোশাকসহ, কেউ আবার গামছা, লুঙ্গি পড়ে সুইমিং পুলের পানিতে নেমে পড়ছেন।

তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনের আনন্দে গোসল করছেন। কিন্তু দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুইমিং পুলগুলোতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমে। অনেক পুলে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি একসঙ্গে গোসল করছেন দর্শনার্থীরা। আর হঠাৎ করে দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সুইমিং পুলগুলোতে মানুষের উপচে পরা ভিড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এসব বিনোদন পার্কের মালিকরা।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ সুইমিং পুলে নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ গোসল করছেন। এতে পানির গুণগতমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সুইমিং পুলগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা খুবই কম।

সুইমিং পুলে ১৫০-২০০ মানুষের জন্য মাত্র ১ বা ২ জন লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকছেন। শিশু, কিশোর-কিশোরীরা সাঁতার না জানলেও গভীর পানিতে নেমে যাচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। অপরদিকে অতিরিক্ত ভিড়ে পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাস ইনফেকশন ও চোখের কনজাংটিভাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও অনেকে পানিতে প্রস্রাব, থুথু ফেলেন যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ায় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় বরাব এলাকার বাসিন্দা রনি আহম্মেদ বলেন, তীব্র তাপদাহে ঘরে থাকাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখা চললেও গরম লাগে, তারপরেও ঘরে থাকা দায়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে সুইমিং পুলে আসছি। সুইমিং পুলে পানিতে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা থাকার পর একটু স্বস্তি লাগছে।

বড়ইবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারাও কান্নাকাটি করছিল। তাই ১৫০ টাকা করে টিকিট কেটে সুইমিং পুলে নিয়ে আসলাম। এখানে গোসলের পর বাচ্চারাসহ আমরাও একটু স্বস্তি পাইলাম।

রায়হান হোসেন জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে সুইমিং পুলগুলোতে হঠাৎ করে উপচেপড়া ভিড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন বিনোদন পার্কের মালিকরা। তবে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের

নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রিসোর্টের কর্মী জানান, হঠাৎ গরমের কারণে এখন সুইমিং পুলে অতিরিক্ত মানুষ আসছে। আমরা নিয়মিত পুলের পানি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমাদের লাইফগার্ড ও কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ নাই। মাইকিং করে সতর্ক করি, কিন্তু কেউ শোনে না। তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নারাজ এসব বিনোদন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম জানান, ভ্যাপসা গরমে আর হিটস্ট্রোক এড়াতে প্রতি ২০ মিনিট পরপর ছায়ায় বসে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন খেতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত সুইমিং পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গোসলের আগে ও পড়ে সাবান ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। তবে সুইমিং পুলের পানি যদি ক্লোরিনযুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে সেখানে না নামাই ভালো।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম ফখরুল হোসাইন জানান, হঠাৎ ভ্যাপসা গরমে সুইমিং পুলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট

কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম