৩৫ কেজির সামুদ্রিক পোপা মাছের দাম কেন ৮ লাখ টাকা?

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

আবদুল গণির জালে ধরা পড়া ৩৫ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ। ছবি: যুগান্তর

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের জেলে আবদুল গণির জালে ধরা পড়েছে ৩৫ কেজি ওজনের একটি পোপা মাছ। যা বিক্রি হয়েছে ৮ লাখ টাকায়। এ নিয়ে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে তোলপাড় চলছে। সবার মুখে মুখে ফিরছে মাছটির এত দাম কেন?

মাছটিতে এমন কি রয়েছে যা এত দামে বিক্রি হলো। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দিতে না পারলেও সবাই বলছেন মাছটির ফুসফুস বা ফদানার কারণে এত দাম।

মাছটির মূল ক্রেতা কক্সবাজারের মহেষখালীর ইসহাক বলছেন, মাছটি হংকংয়ে রফতানি হবে। আর মাছটির ফুসফুস দিয়ে বিশেষ ধরনের স্যুপ তৈরি হয় তাই মাছটির এত দাম।
 
মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিনের জেলে আবদুল গনির জালে ধরা পড়ে ৩৫ কেজি ওজনের পোপা মাছটি।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, পোপা মাছের বায়ুথলী বা এয়ার ব্লাডারের কারণে মাছটির অত্যাধিক মূল্য। এয়ার ব্লাডার দিয়ে বিশেষ ধরনের অপারেশনাল সুতো তৈরি হয় বলে মাছটির এতো দাম বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

যার জালে মাছটি ধরা পড়েছে সেই আবদুল গণি জানান, তার নিজস্ব ট্রলারে মঙ্গলবার সকালে অপর দুই জেলেকে নিয়ে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সাগরে বের হয়েছিলেন। সকাল ১০টার দিকে সেন্টমার্টিনের এক দেড় কিলোমিটার দূরে ফুলেরকুপ নামক স্থানে জাল ফেলেন।

এর কিছুক্ষণ পর যখন জালে মাছটি ধরা পড়ে। আর দেরি না করেই দ্বীপে ফিরে আসেন তিনি। মৎস্য ঘাটে ফিরলে মাছটি দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ও ফজল করিমের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। ১ লাখ টাকা থেকে দাম উঠতে উঠতে এক পর্যায়ে ৮ লাখ টাকায় ফজল করিমের কাছে মাছটি বিক্রি করেন।

তার জালে ধরা পড়া পোপা মাছটি স্থানীয় ভাষায় কাল পোয়া নামে পরিচিত। আর এই কাল পোয়ার যে অধিক দাম তা তিনি আগে থেকে জানতেন। এর আগেও তার জালে প্রায় কাল পোয়া ধরা পড়েছিল তবে সেগুলো আকারে ছোট এক দেড় কেজি ওজনের। এত বড় মাছ আগে কখনো তার জালে ধরা পড়েনি বলে জানান জেলে আবদুল গনি।

মাছটির ক্রেতা ফজল করিম জানান, তিনি কক্সবাজারের ইসহাকের জন্য মাছটি ক্রয় করেছেন।

এদিকে মাছের খবর পেয়ে সেন্টমার্টিনে ছুটে আসেন ইসহাক। মোবাইল ফোনে কথা হলে ইসহাক যুগান্তরকে জানান, ঝুঁকি নিয়ে মাছটি কিনেছেন। যদি ফদানা বা ফুসফুসটির ওজন ৯শ হতে সাড়ে ৯শ গ্রাম হয় তবে এটি বিক্রি করে লাভ হবে। আর ওজন কম হলে লোকসান হবে কয়েক লাখ টাকা।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী পিকে দাশের কাছে তিনি মাছটি বিক্রি করবেন। পিকে দাশ দেশের বাইরে থাকায় ওয়াটসআপে কথা বলে মাছটি কিনেছেন তিনি। পিকে দাশ বিদেশে মাছ ও মাছের ফদানা রফতানি করে থাকেন বলে জানান ইসহাক।

সেন্টমার্টিন ইউপি সদস্য মো. হাবিব জানান, সেন্টমার্টিনের জেলেদের জালে প্রায় বড় আকারের সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ে তবে এত অধিক দামে কখনো মাছ বিক্রির খবর শুনি নাই।