১২০০ বছরের পুরনো লাউড় রাজ্য নিদর্শনে আরও খোঁজ চলছে

  তাহিরপুর প্রতিনিধি ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাচীন লাউড় রাজ্যে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনে আরও খোঁজ চলছে
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী ও গৌর গোবিন্দের রাজবাড়ীর উৎখনন চলছে। ছবি যুগান্তর

প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া দুর্গ ও ব্রাহ্মণগাঁওয়ের গৌর গোবিন্দের রাজবাড়ীর উৎখনন শুরু হয়েছে।

ওই রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শনের পাশাপাশি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে খনন কাজ ফের শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার খননের দ্বিতীয় দিন চলছে।

এরআগে বুধবার থেকে শুরু হওয়া উৎখননের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো রাজবাড়ীটি তার অতীত ইতিহাস-ঐহিত্য নিয়ে ফের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৯ সদস্যের একটি টিম এ খননকাজ করছে। আগামী দুই মাস এ খননকাজ চলবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বুধবার রাতে জানান, প্রথম দিনের খননকাজের মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীর সীমানাপ্রাচীরের বেশ কিছু অংশ, রাজবাড়ীর প্রবেশদ্বার সফলভাবে খনন করে দৃশ্যমান পর্যায়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুরো খননকাজ শেষ হলে পর্যটকরা অনায়াসে এ রাজ্যের ঐতিহ্যের নিদর্শনের পাশাপাশি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছি।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বড়দল (উওর) ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটি সুপ্রাচীনকালে লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল।

লাউড় রাজ্যের চতুসীমা ছিল পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ, পূর্বে জৈন্তিয়া, উত্তরে কামরূপ সীমান্ত ও দক্ষিণে বর্তমানে ব্রাম্মণবাড়িয়া পর্যন্ত।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি প্রকৃতপক্ষে ছিল রাজবাড়ী। তৎকালীন রাজা বিজয় সিংহ আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর আগে ওই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।

এ রাজবাড়ীটি ৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তৎকালে নির্মিত এই রাজবাড়ীটিতে ছিল বন্দিশালা, সিংহদ্বার, নাচঘর, দরবার হল, পুকুর ও সীমানা প্রাচীর, যার কিয়দাংশ আজ ১২০০ বছর পরও দৃশ্যমান রয়েছে।

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিকের প্রচেষ্টায় দুই মাসব্যাপী চলবে খননকাজ। প্রাচীন নিদর্শন, ইতিহাস সম্পর্কে জানা, পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ওই খননকাজ শুরু করা হয়।

২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর ও ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দুই শিক্ষক ও একদল শিক্ষার্থী গবেষক অধ্যাপক ড. অসিত বরণ পালের নেতৃত্বে এ হাওলি রাজবাড়ী সংরক্ষণ ও খননের লক্ষ্যে প্রাথমিক মাঠ জরিপ কার্য পরিচালনা করেছিলেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট টিমে রয়েছেন ঢাকা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ, সহকারী কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, কুমিল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সিনিয়র ড্রাফটম্যান সিরাজুল ইসলাম, জালাল আহমেদ, আলোকচিত্রকর নুরুজ্জামান মিয়া, রেকর্ডার ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অফিস সহায়ক লক্ষণ দাস।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার হলহলিয়ায় এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুর্ণেন্দু দেব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শ্রী কানন কুমার দেবনাথ, জয়নাল আবেদীন ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ ফণী ভূষণ সরকার, বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ জুনাব আলী প্রমুখ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×