রাজবাড়ীতে ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ী আদালত কার্যালয়ে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ‘ঘুস’ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হাওলদার। তিনি রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রাজবাড়ী কোর্ট পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে নিজ চেয়ারে বসে পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইসরাফিল হাওলাদার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুস গ্রহণ করছেন। গত সোমবার (৬ জুলাই) এ সংক্রান্ত ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই ইসরাফিল হাওলাদার কার্যালয়ে তার নিজের চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় তার টেবিলের সামনে বসা জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে ইসরাফিলকে দিচ্ছেন। এ সময় ওই ব্যক্তির পাশে আরেক ব্যক্তি দৃশ্যটি দেখছেন এবং মুচকি হাসি দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণের পর এসআই ইসরাফিল হাওলাদার হাত দিয়ে ওই ব্যক্তিকে (ঘুস প্রদানকারী) কিছু একটা দেখিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওইদিনই (সোমবার) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা বের করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামসুল হককে প্রধান করে জেলা পুলিশের ডিআইও ওয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং আদালত কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলামকে সদস্য করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আদালত কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক ইসরাফিল হাওলাদার বুধবার দুপুরে মোবাইলে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীদের একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে লেগে আছে। এছাড়াও নিজেদের স্টাফদের মধ্যে কেউ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছেন। তবে ভিডিওতে টাকা গ্রহণের কোনো বিষয় ছিল না। একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।
রাজবাড়ী আদালত কার্যালয়ের কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলামকে বলেন, আমি কোর্টে যোগদানের আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনা তদন্তে আমাকেসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ঘুস গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ পুলিশ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওইদিনই অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক ইসরাফিল হাওলাদারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-6a4e654c40c51.jpg)