ওষুধকাণ্ডে গাজীপুরের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ লুকিয়ে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করার ঘটনায় গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
বিভাগীয় মামলাটি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে বিভাগীয় মামলা নং-১৭২/২০২৬ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে মজুত করে নষ্ট করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় ডা. মামুনুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সেই বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি কোয়ার্টার ভবনের নিচতলার পরিত্যক্ত অংশের পাঁচটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ না করায় সেসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই ভবনের আরও দুটি কক্ষে হাসপাতালের জন্য কেনা বিভিন্ন সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল।
এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে সরকারি ওষুধ অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওষুধ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বছরের পর বছর গুদামজাত অবস্থায় পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে একদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারও রোগী।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এত বড় অনিয়ম দিনের পর দিন চললেও কেন তা আগে থামানো যায়নি? তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
তাদের মতে, সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং রোগীদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনায় বিভাগীয় মামলাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আর্থিক দায় নির্ধারণের উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষপর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
ডা. মামুনুর রহমান বলেন, বিগত দিনের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু আইনগত; তাই আইনগতভাবে জবাব দেব।
