চট্টগ্রাম বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
চট্টগ্রাম বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিক্ষোভের কারণে নগরীর ২ নাম্বার গেট থেকে মুরাদপুর সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা করে সোমবার পরীক্ষা নেওয়ায় বহু শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১১টা থেকে শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এর কিছুক্ষণ পরই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
তাদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে আশ্বাস দেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে একসঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে, কোনো একটি বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্য বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত সোমবার যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত নতুন করে তা সরবরাহ করতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় পানিতে অনেকের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র নষ্ট হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমাদের দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট। আমরা শুধু এক বোর্ড নয়, সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত চাই। এছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নে ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি চাই।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আন্তঃবোর্ড কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশপত্রের বিষয়ে বোর্ডে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যানজট লেগে গিয়েছিল। বিকাল ৪টার পর তারা সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে যানজট স্বাভাবিক হয়েছে।
