কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার কারণে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। কেন্দ্রটি থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ উৎপাদন। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে উচ্চতা এখন ১০২ ফুটের উপরে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তারা জানান, এর আগে প্রথম দফায় একটানা বৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর পর্যাপ্ত হারে বাড়তে শুরু করে। এতে ৭ জুলাই থেকে কেন্দ্রের সব ইউনিট একসঙ্গে চালু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। এতে কাপ্তাই কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনের গতি দ্রুত বেড়ে গেছে, যা কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে ১ ও ২নং ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪৬ মেগাওয়াট করে ৯২ মেগাওয়াট, ৩নং ইউনিট হতে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট বা এমএসএল (মিন সি লেভেল)। রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৮ ফুট। কাপ্তাই হ্রদে পানির স্বলতায় গত কয়েক মাস ধরে কখনো ১টি বা ২টি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছিল। হ্রদে পর্যাপ্ত পানি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি চলে গেছে। তবে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ১০৭ ফুট হলে বিপৎসীমায় পৌঁছায়। এ পর্যায়ে গেলে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে দিয়ে হ্রদের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে। হ্রদে সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট।
