চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি
জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ কাম্য
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম নগরীতে সম্প্রতি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুগান্তরের খবর অনুযায়ী, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। শিল্পপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণ, বাড়ি নির্মাণ ও জুট ব্যবসায় বাধা এবং সরকারি দপ্তরে অস্ত্র উঁচিয়ে টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বলা বাহুল্য, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ওপর গোটা দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে নির্ভরশীল। সেখানে ব্যবসায়ীদের এমন নিরাপত্তাহীনতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। ভুক্তভোগীদের অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন কিংবা ভয়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করছেন না। পরিতাপের বিষয়, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশে এবং স্থানীয় উঠতি ক্যাডারদের মাধ্যমে নগরীর বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে চাঁদাবাজদের হাতে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর বর্তাচ্ছে।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে শুধু এ আশ্বাস বাণীতে কাজ হবে না। ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোয় পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অবিলম্বে বাড়ানো উচিত বলে মনে করি আমরা। অপরাধীদের কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে যারা বিদেশে বসে দেশের ভেতরে সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশের বিশেষ সুরক্ষা সেল গঠন করাও জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, ব্যবসায়ীরা সরকারকে কর দেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন; তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সমন্বিত এবং কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়। সরকার অবিলম্বে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
