শরণখোলার সেই শহিদুলের দেখা মিলল ১১ বছর পর

  বাগেরহাট প্রতিনিধি ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

শরণখোলার সেই শহিদুলের দেখা মিলল ১১ বছর পর
সিডরে হারিয়ে যাওয়া শহিদুল মোল্লা। ছবি: যুগান্তর

সিডরে নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পর শরণখোলার জেলে শহিদুল মোল্লা (৪৮) ফিরে এসেছে।

গত ১১ বছরে পরিবারের সদস্যরা তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছিন। হঠাৎ দুদিন আগে বাগেরহাটের শরণখোলার আমড়াগাছিয়া বাজারে পাগলবেশে ঘুরতে দেখে তাকে শনাক্ত করে পরিবারের লোকেরা। সরকারিভাবে সিডরে নিখোঁজ তালিকায় থাকা শহিদুল ১১ বছর পর ফিরে পেয়ে স্বজনকে পেয়ে ওই পরিবারে এখন বইছে আনন্দের বন্যা।

শহিদুলের বড় বোন মঞ্জু বেগম জানান, তিনি দুদিন আগে পরিচিত একজনের মাধ্যমে খবর পান আমড়াগাছিয়া বাজারে শহিদুলের মতো দেখতে এক পাগল ঘুরাফেরা করছে। তখন তিনি ছুটে যান সেখানে। গিয়ে দেখেন বাসস্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনিতে ঘুমিয়ে আছে শহিদুল। তার কপালের বামপাশে কাটা দাগ, হাতের আঙুলে বড়সি ঢুকে ক্ষত হয়েছিল; এসবের মিল দেখেই শনাক্ত করেন ভাইকে।

সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনে তার পাগলবেশে থাকা লম্বা চুল দাঁড়ি কেটে সিডরে হারিয়ে যাওয়া শহিদুলকে আবিষ্কার করেন তিনি। বর্তমানে শহিদুল মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে সেবা শশ্রুষা করা হচ্ছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। তিনি তার ভাইয়ের চিকিৎসায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ফুলমিয়া মোল্লার ছেলে শহিদুল তার ছোট ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর নৌকা নিয়ে সিডরের তিন দিন আগে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।

ওই নৌকায় ছিলেন মাসুম, ছিদ্দিক, সেলিমসহ আরও তিন জেলে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে তারা সবাই বঙ্গোপসাগরে ভেসে যায়। তার বাবা ফুলমিয়া ছিলেন অন্য মৎস্য ব্যবসায়ী ইউনুস শিকদারের নৌকায়। আজও তারও কোনো খোঁজ মেলেনি।

রোববার দুপুরে কথা হয় রায়েন্দা বাজারে ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর বাড়িতে থাকা মানষিক ভারসাম্যহীন শহিদুলের সঙ্গে। সিডর কি তা তার স্মরণে নেই। এখন যা বলছে, একটু পর সেকথা আর মনে করতে পারছে না। সিডরে কোথায় ছিল, কি ঘটেছিল তাও বলতে পারছে না। তবু তার অসংলগ্ন কথায় যা জানা গেল, ভারতের পাটগ্রাম নামক এলাকায় রশিদ খানের বাড়িতে থাকত। সেখানে গরু রাখা আর বাড়ির কাজ করত। এর পর সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে চলে আসে সে। সীমান্তে তাকে কেউ আটকায়নি। এসবও তার ভারসাম্যহীন মনের কথা। সঠিক করে বলতে পারছে শুধু নিজের নামটাই।

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে দুর্বিসহ অবস্থায় পড়েন স্ত্রী মাসুমা বেগম।

তিনি চার সন্তানের কথা ভেবে চার বছর আগে কাজের সন্ধানে চলে যান ভারতের বেঙ্গালুরুতে। অভাবের সংসারে অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে গেছে মেয়ে পুতুল (২০) ও মুকুলের (১৮)। মাসুম (১৭) হাফেজি পড়ছে। স্কুলে পড়া ছোট ছেলে ১১ বছর বয়সী মাসুদ সিডরের সময় ছিলো মায়ের গর্ভে।

স্বামী ফিরে আসার খবর মোবাইলে শুনে খুশিতে আত্মহারা স্ত্রী মাসুমা বেগম দু-একদিনের মধ্যেই বেঙ্গালুরু থেকে বাড়িতে ফিরে আসবেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×