বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

কালীগঞ্জে অসহায় মানুষের জন্য ‘মানবতা পয়েন্ট’

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

অসহায় মানুষের জন্য ‘মানবতা পয়েন্ট’। ছবি: যুগান্তর

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সামনে দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারীর চলাচল। যতায়াতের পথে একটি কাঠের বাক্স চোখে পড়ছে সবার। পথচারীরা কাঠের বাক্সটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

চার কোনা বাক্সটির ভেতরে লাগানো হয়েছে কাপড় ঝুলানো হুক বা হ্যাঙার। বাক্সটিতে ঝুলছে জামা-কাপড়। বাক্সটির ওপরে দেয়া হয়েছে একটি সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডটি পড়ে সবাই বুঝতে পারছেন, এটি অসহার মানুষের জন্য খোলা হয়েছে।

সাইনবোর্ডটিতে লেখা আছে, ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে মানবতার গর্বিত সাক্ষী হোন। প্রতিদিন মাগরিবের নামাজ পর কালীগঞ্জের যে কোনো নাগরিক এখান থেকে কাপড় নিয়ে দুস্থদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেন’। আর  এই বাক্সটির নাম দেয়া হয়েছে ‘মানবতা পয়েন্ট’।

আর এই মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোস্তাক আহমেদ লাভলু। রোববার সন্ধ্যায় এটি স্থাপন করা হয়।

মোস্তাক আহমেদ লাভলু জানায়, উপজেলায় অনেক গরিব মানুষ আছে তারা কাপড় কিংবা শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় অবস্থায় থাকে। প্রতি বছর বিভিন্ন মানুষ শীতবস্ত্র বিতরণ করে কিন্তু অনেকে তা পায় না। অসহায় মানুষের স্বার্থে এটি স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের সমাজে এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের বাড়িতে অব্যবহৃত অনেক পুরাতন কিংবা নতুন কাপড় আছে। সেই কাপড়গুলো এই মানবতা পয়েন্টে নিজ হাতে কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে রেখে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, আমরা এই পয়েন্টে পাওয়া কাপড় বা শীতবস্ত্রগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখব। যদি কোনো অসহায় মানুষের প্রয়োজন হয় তাহলে নিজে ইচ্ছাই সেই কাপড়টি এখান থেকে বিনামূল্যে নিয়ে যেতে পারবেন।

লাভলু জানায়, এটি করার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে সচেতন করা। যাতে করে মানুষ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী আবদুল গণি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় এটি স্থাপন করা হলেও অনেকে কাপড় বা শীতবস্ত্র দিয়ে গেছেন। লাভলু অসহার মানুষের জন্য যে কাজটা করেছে, আমাদের সবার সচেতন হওয়া উচিত।