Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে হলুদ সোনালি বাটা নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি কুয়াকাটার আলীপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে মাছটি দেখতে স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।

এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারের জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

জানা গেছে, এফবি জারিফ-৪ ট্রলারের জেলে আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়লে তাদের মধ্যে বেশ কৌতূহল দেখা দেয়। অপরিচিত মাছটি পরে আলীপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া আড়তে নেওয়া হলে এর উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রং ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে সবার নজর কাড়ে। স্থানীয়দের কাছে মাছটি হলুদ সোনালি বাটা (Yellow Goatfish) বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।

ট্রলারের মাঝি আসাদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মাছটি আমাদের জালে উঠে আসে। এর রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে আসে।

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখিনি। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। তবে মাছটি অনেক ছোট।

আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণা করা প্রয়োজন।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, হলুদ সোনালি বাটা (Upeneus sulphureus) বা গোটফিশ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। এটি সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।

তিনি জানান, মাছটির থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড় (barbels) দিয়ে সমুদ্রের তলদেশের বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় তলদেশের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছটি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং পুষ্টিকর প্রোটিনের ভালো উৎস।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাছ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .